× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার

৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সুদানি প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার, ৯:৩৮

তরুণদের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ৩০ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক ঘোষিত একজন যুদ্ধাপরাধী তিনি। গত চার মাস যাবৎ দেশটিতে আল-বশিরের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। যার ভিত্তিতে বৃহ¯পতিবার দেশটির সেনাবাহিনী তাকে নামিয়ে ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে আল-বশিরকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ মোহাম্মদ আহমেদ আউফ এ খবর নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ৩ মাসব্যাপী রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
আল-বশিরকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির সকল রাজনৈতিক বন্দিকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আহমেদ আউফ গণমাধ্যমে বলেন, সুদানে বৈষম্য সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
এত কষ্টের পরেও, এত মিথ্যার পরেও, এত মিথ্যা প্রতিশ্রুতির পরেও সুদানের মানুষ ধৈর্য্য ধরেছে। আহমেদ আউফ নিজেও সুদানি তরুণদের সংগঠনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় অবস্থান করছে। এ ছাড়া, সুদানে সবধরনের বিমান চলাচল ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে সুদানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রথম সরকারবিরোধী এ আন্দোলন শুরু করে। দেশটিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলছিল। ফলে আস্তে আস্তে তরুণদের থেকে জন-অসন্তোষ ছড়িয়ে পরতে শুরু করে। এক সময় দেশটির এটিএমগুলোর ক্যাশ শেষ হয়ে যায়। ফলে তরুণদের ওই আন্দোলন পরিণত হয় বৃহত্তর গণ-আন্দোলনে। কঠোর হস্তে এ আন্দোলন দমন করতে গেলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশের হামলায় নিহত হয় কমপক্ষে ৬৫ আন্দোলনকারী। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ভিপিএন ব্যবহারে বাধ্য হয় দেশটির জনগণ। তবে এরই মধ্যে আন্দোলন চলতে থাকে আল-বশিরের বিরুদ্ধে।
সাবেক সেনাপ্রধান আল-বশির ১৯৮৯ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতায় আসেন। ৭৫ বছর বয়স্ক এই প্রেসিডেন্টকে ২০০৯-২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের দায়ে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালত। এর মধ্যে রয়েছে, যুদ্ধাপরাধ ও দারফুর গণহত্যা। এতে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। একইসঙ্গে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছিল আরো কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্যেও আল-বশির মিশর ও সৌদি আরব সফর করতেন।



অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর