× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার

ফেডারেশনগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই এনএসসি’র!

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার, ৯:১৩

গত বছর ১৮ই অক্টোবর সর্বশেষ জুজুৎসুকে অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এটি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় ৫৩ নম্বরে। চার মাস আগে এই অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন পেলেও এখনো কমিটি গঠন হয়নি।  দেশের ৫৩টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ৯টি জন্মলগ্ন থেকেই চলছে প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়ে। বছরের পর বছর পার হলেও এ অ্যাসোসিয়েশনগুলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়নি। এর বাইরে অন্তত ৩০টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গন থেকে আস্তে আস্তে উধাও হচ্ছে গণতন্ত্র। চার বছর পরপর প্রতিটি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার নিয়ম থাকলেও তা আর মানা হচ্ছে কই? ৫৩ টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ৩০টিতেই নেই নির্বাচিত কমিটি।
যে ২৩টিতে এখন নির্বাচিত কমিটি রয়েছে তার ৫টির মেয়াদ শেষ। নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি ক্রীড়াঙ্গনে পুরনো ও অভিজ্ঞজন। সরকারের গত দুই মেয়াদে তিনি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি। ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনিও পারছেন না ক্রীড়াঙ্গনে গতি ফেরাতে। ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মতবিনিময় সভায় বসেছিলেন গত ৮ই জানুয়ারি। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে তিন মাস। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ শেষ করেছে কেবল বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচন। নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে হকি ও শরীরগঠন ফেডারেশনে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ-এ।  
অ্যাথলেটিকস, হকি ও কাবাডির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশনসহ অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে চলছে সাইক্লিং, টেনিস, ভারোত্তোলন, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, ব্রীজ, গলফ, ক্যারম, মার্শাল আর্ট, ঘুড়ি, রাগবি, ফেন্সিং, উশু, বেসবল-সফটবল, কিক বক্সিং, আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানদো ও বাংলাদেশ বধির ক্রীড়া ফেডারেশন। এর বাইরে ব্যুত্থান, ইয়োগা, সার্ফিং, মাউন্টেনিয়ারিং, কান্ট্রি গেমস, সেপাক টাকরো, চুকবল, থ্রোবল ও জুজুৎসু, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচন করার মতো সাধারণ পরিষদও নেই। তাই এসব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কি-না তা কেউ বলতে পারছে না।
ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোক্তারা প্রথমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে একটি কমিটিসহ নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। জানা যায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সব আমলের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তাকে খুশি করতে পারলেই দ্রুত পাওয়া যায় অনুমোদন। অনেক সময় ওই কর্মকর্তাকে খুশি করতে গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসান নতুন এসব ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। দেশের খেলাধুলার অভিভাবক সংস্থাটি অনুমোদন দেয়ার সময়ই বলে দেয় দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিতে। কিন্তু সেই দ্রুততম সময় আর আসে না। নিবন্ধনের কাগজ পাওয়ার পর তারা থোরাই কেয়ার করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে।
প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়ে চলছে যেসব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন
বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মঙ্গলবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ ফেডারেশনটি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চলছে প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়ে। কমিটি গঠনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে কখনো পস্তাবও দেয়নি এ ফেডারেশন। বাংলাদেশ ঘুড়ি অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর। ১৩ বছরেও এ অ্যাসোসিয়েশন থেকে কমিটি গঠন করে দেয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব পায়নি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২০০৯ সালের ৩০শে জুন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে বেসবল-সফটবল অ্যাসোসিয়েশন। ১০ বছর ধরে এ অ্যাসোসিয়েশনও চলছে প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়ে। ২০১০ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে নিজেদের করা কমিটি দিয়ে চলছে বাংলাদেশ কিক বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন। ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে একইভাবে চলছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানদো অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশ ব্যুত্থান অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম ২০১৩ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি। চলছে সেই প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়েই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে এ অ্যাসোসিয়েশনটিও কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়নি। গত বছর ১৮ অক্টোবর যে চারটি অ্যাসোসিয়েশনকে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই থ্রোবল, সেপাক টাকরো ও জুজুৎসু চলছে নিজেদের জমা দেয়া কমিটি দিয়েই।
ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) শাহ আলম সরদার বলেন, আমরা এরই মধ্যে অনির্বাচিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরইমধ্যে হকি, শরীরগঠন, প্যারালিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই অ্যাথলেটিক্সসহ বেশ কয়েকটি ফেডারেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।  

৫৩ টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ৩০টিতেই নেই নির্বাচিত কমিটি। যে ২৩টিতে এখন নির্বাচিত কমিটি রয়েছে তার ৫টির মেয়াদ শেষ। ৯টি জন্মলগ্ন থেকেই চলছে প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি দিয়ে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর