× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার

রাফাল চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে পাকিস্তানি পাইলটরা, ভারতের উদ্বেগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার, ৯:৩৫

নিজেরা কিনতে না পারলেও পাকিস্তানের পাইলটরা ভারতীয়দের আগেই ফ্রান্সের অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান রাফাল চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। কাতার বিমানবাহিনীর এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানি পাইলটেদের এই প্রশিক্ষণ দেয় রাফালের নির্মাতা ফরাসি কোম্পানি ডসাল্ট এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কাতার যে রাফাল কেনে তার প্রথম চালান গত ফেব্রুয়ারিতে হস্তান্তর করা হয়। তবে, পাকিস্তানি পাইলটদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে ডসাল্টের ভারতীয় নির্বাহীরা কিছু জানেন না বলে এনডিটিভির কাছে দাবি করেছেন। ডসাল্টের কাছ থেকে ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে ৩৬টি রাফাল কেনার জন্য চুক্তি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। যদিও এই চুক্তি করায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এভিয়েশন সেক্টরের উপর নজর রাখা সংবাদ মাধ্যম- ‘এআইএনঅনলাইন.কম’ প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভারতীয়দের টনক নড়ে। ডসাল্টের কাছে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাইলে নির্বাহীরা ওই কথা জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে কাতারের প্রথম ব্যাচে যেসব পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তারা ছিলেন পাকিস্তানের এক্সচেঞ্জ অফিসার। প্রতিবেদনের লেখক জন লাক বলেন, কাতারের প্রথম স্কোয়াড্রন রাফালের জন্য ২০১৭ সালের ১লা অক্টোবর ফ্রান্সের ‘মন্ট ডি মারসান’-এ ‘ স্কোয়াড্রন ডি শ্যাসে ০৪.০৩০’ গঠন করা হয়। চলতি বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি কাতার ডসাল্টের ম্যারিগন্যাক কারাখানা থেকে রাফালের প্রথম চালান গ্রহণ করে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ডসাল্ট জানায়, ২৪টি রাফাল কেনার জন্য ২০১৫ সালের মে মাসে কাতার চুক্তি করে। পরে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আরো ১২টি ফাইটারের অর্ডার দেয়া হয়। প্রথম ২৪টি এয়ারক্রাফটের মূল্য ৬.৩ বিলিয়ন ইউরো।
বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্রবাহিনীতে পাকিস্তানি সেনারা ডেপুটেশনে কাজ করছে। অংশীদার দেশগুলো থেকে সামরিক সরঞ্জামও পেয়ে থাকে পাকিস্তান। জর্ডানের কাছ থেকে পাকিস্তান অতিরিক্ত ১৩টি এফ-১৬ এ/বি ফাইটার পেয়েছে। ২৭শে ফেব্রুয়ারি ভারতীয় জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার সময় এর কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ভারত ধারণা করছে। গত জানুয়ারিতে কাতারের বিমান বাহিনী প্রধান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। তখন পাকিস্তানি বিমানবাহিনী প্রধান তার কাতারি প্রতিপক্ষকে এভিয়েশন ও সামরিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পাকিস্তানি পাইলটরা রাফাল বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকলে তা ভারতের জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করবে। আগামী সেপ্টেম্বরে রাফালের প্রথম চালান ভারতে পৌঁছাবে বলে কথা রয়েছে। রাফালগুলো ভারতের জন্য বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করা হলেও এতে থালেসের তৈরি আরবিই-২ এইএসএ রাডার থাকবে। কাতারি রাফালেও একই ধরনের রাডার রয়েছে। এই রাডারের ফলে রাফাল পাইলটরা জল-স্থল-আকাশে একই সঙ্গে বহুসংখ্যক শত্রুকে টার্গেট ও অনুসরণ করতে পারেন। ফলে ভারতীয় পাইলটরা রাফাল চালাতে শুরু করলে পাকিস্তানি পাইলটরা আগেভাগেই এর নিখুঁত রেঞ্জ এবং এগুলোর ব্যবহৃত সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগ-২৭-এর সাবেক পাইলট আংশুমান মাইনকার বলেন, তারা জানবে কিভাবে উইপন সিস্টেম কাজ করে এবং এগুলো কিভাবে জ্যাম বা প্রতিরোধ করতে হবে।
তাছাড়া কাতার ও ভারতীয় উভয় দেশের রাফাল ফাইটারে স্পেকট্রা কাটিং এজ প্রতিরক্ষা স্যুট রয়েছে। এতে রাফাল বিমানগুলো সহজেই তাকে টার্গেট করা শত্রুর বিমান বা হুমকি চিহ্নিত করতে পারে। স্পেকট্রা কিভাবে কাজ করে এবং এর সীমাবদ্ধতা জানা থাকলে পাকিস্তানি পাইলটরা সহজেই একে পরাস্ত করার কৌশল বের করে ফেলবে। রাফাল চালানোর কারণে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর পাইলটরা জানবে কিভাবে এগুলো সামাল দিতে হয়, কিভাবে এর সিস্টেমগুলো কাজ করে এবং কিভাবে এগুলো সমন্বয় করতে হয়। তাই মাইনকার বলেন, এক্সচেঞ্জ পাইলটের ভূমিকারও ব্যাখ্যা পেতে হবে। সেখানে তারা কেন ছিল? এক্সচেঞ্জের উদ্দেশ্যই বা কী?
কাতারি ও ভারতীয় দুদেশের রাফালই মেটেওর আল্ট্রা লং- রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। এই অস্ত্র দিয়ে ১০০ কিলোমিটার দূর থেকেই আকাশে শত্রুর বিমানের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে রাফাল। পাকিস্তানি পাইলটদের এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কলাকৌশল জানা থাকলে তারা ভারতীয় বিমান থেকে নিরাপদ দূরত্বে বসেই পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পেয়ে যাবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর