× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

মেয়েদের ফুটবল দলই রাখবে না বিজেএমসি!

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৪ এপ্রিল ২০১৯, রবিবার, ৮:৫৭

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে (বিজেএমসি) চাকরি করেন ২১ জন নারী ফুটবলার। এর মধ্যে ১১ জন আছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আবাসিক ক্যাম্পে। বিজেএমসির বাকি ১০ নারী ফুটবলার  বেকার অর্ধযুগ ধরে। মেয়েদের স্থায়ী দল থাকা দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি এখন খেলা না হওয়ায় বিরক্ত। মেয়েদের এভাবে কতদিন বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেবে প্রতিষ্ঠানটি। মাস তিনেক আগে বিজেএমসি থেকে চিঠি দিয়ে বাফুফেকে খেলা আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বাফুফে নাকি এপ্রিলে মেয়েদের ঘরোয়া একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তখন; কিন্তু তার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন শুক্রবার বেরাইদে একাডেমি মাঠে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা অক্টোবরে মেয়েদের লীগ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
একই কথা বলেছেন বাফুফের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও।
কিন্তু বাফুফের আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছে না বিজেএমসি। বরং মেয়েদের ফুটবলের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কার কথাই শোনালেন সংস্থাটির ক্রীড়া দপ্তরের এসিও মো. আবদুল কুদ্দুস, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের চাপ দিচ্ছে। আমরা কেনো মেয়ে ফুটবল দল রাখবো? খেলা না থাকলে কোন সংস্থাই মেয়েদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেবে না। জুলাইয়ের মধ্যে মেয়েদের টুর্নামেন্ট না হলে আমরা মেয়েদের ফুটবল দল বন্ধ করে দেবো।’ মাহমুদা আক্তার অনন্যা, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, ইসরাত জাহান রত্না, সিরাত জাহান স্বপ্না, মিসরাত জাহান মৌসুমী, মাসুরা পারভীন, রাজিয়া খাতুন, লাবনী আক্তার, নিলুফা ইয়াসমীন নীলা ও সুলতানা- বিজেএমসির এই ১১ ফুটবলার আছেন বাফুফের ক্যাম্পে। কিন্তু বিজেএমসির বাকি ১০ ফুটবলার সাবিনা আক্তার (গোলরক্ষক), রওশন আরা, খাদিজা খাতুন রুমা, সুরভী আক্তার ইতি, আছিয়া খাতুন বিথী, সানু আক্তার ঝুমু, সীমা আক্তার খাদিজা, সুরাইয়া, রূপা আক্তার ও রোকশানা আক্তারদের ভবিষ্যত অন্ধকার। চাকরি করা এই মেয়েদের গড়ে মাসিক বেতন হাজার দশেক টাকা। বিজেএমসি ফুটবল দল বন্ধ করে দিলে চাকরিটাই হারাবেন তারা।
অর্ধযুগ ধরে মেয়েদের ঘরোয়া ফুটবল নেই বললেই চলে। ২০১১ ও ২০১৩ সালে হয়েছিল দুটি ফুটবল লীগ। ২০১১ সালে হয়েছিল একটি করপোরেট লীগও। মেয়েদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ সর্বশেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। তারপর সিনিয়র মেয়েদের ঘরোয়া কোনো খেলাই নেই। বাফুফের ক্যাম্পে আছেন ৪৫ জনের মতো নারী ফুটবলার। তাদের সারা বছর ক্যাম্পে রেখে অনুশীলন করাচ্ছে দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। তাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসছে কিছু সাফল্য। কিন্তু দেশের মেয়েদের ফুটবলে যেন আলোর নিচে অন্ধকার। নির্দিষ্ট কিছু মেয়েকে সারা বছর ক্যাম্পে রাখার ফল বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কিছু সাফল্য আসলেও নারী ফুটবলার তৈরির পাইপলাইন নেই বললেই চলে। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট নিয়মিত হলে আরো মেয়ে ফুটবলার উঠে আসতো। বিজেএমসিও তখন আরো মেয়েদের চাকরি দিতে আগ্রহী হতো। এখন ঘটছে উল্টো ঘটনা- ঘরোয়া খেলা না থাকায় এ সরকারী প্রতিষ্ঠানটি মেয়েদের ফুটবল দল বন্ধ করেই দিতে চলেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর