× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২০, শনিবার
অনুগল্প

হারুনের চলে যাওয়া

ষোলো আনা

শাকেরা আরজু | ১৯ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৫২

‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়...’ সারাক্ষণ গুন গুন করতো হারুন। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পড়ার টেবিলেই কাটতো বেশিরভাগ সময়। এক বছর হলো হারুনের মা মারা গেছেন, পরিবারে সেই সবার বড়। ছোট চার বোন। সবচেয়ে ছোট বোনটির বয়স আড়াই বছর। বাবা কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে নিজ জেলায় কলেজ গড়ায় ব্যস্ত। সংসার দেখাশোনা করেন বাবুর্চি।

হারুনের মামি একদিন বাসায় এসে বললেন, তাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে হবে।
জরুরি কাজ আছে। পরীক্ষা  সামনে থাকলেও ছোটবোনসহ মামিকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি গেল হারুন। অনেক দিন পর নানুর বাড়ি এসে হারুন খুব মজা করলো। দৌড়ঝাঁপ, পুকুরে সাঁতার কাটা। ভেজা কাপড়ে নানুর কাছে এসে বায়না করলো, পরীক্ষা সামনে কী দেবে নানু। নানু বললেন, আগে বেঁচে থাকো সব পাবে।

তিন দিন বেড়ানো শেষে রাতের লঞ্চে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় হারুন। ছোটবোনকে রেখে যায় নানুর কাছে। সবাইকে সালাম করে লঞ্চে ওঠে সে। এদিকে, বাবা এসে যখন শুনলো পরীক্ষা সামনে রেখে নানার বাড়ি গেছে হারুন, রেগে যান তিনি। তখনই হারুনকে আনতে যাবেন বলে রওনা করেন।

লঞ্চে হারুনের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। কালাজ্বর। একসময় অচেতন হয়ে পড়ে হারুন। খালাসিরা একটি কেবিনে রেখে আসে দরজা বন্ধ করে। লঞ্চ গন্তব্যে পৌঁছালে সবাই নেমে যায়, থেকে যায় জ্বরে অচেতন হারুন, ভুলে যায় সবাই তার কথা। ওই  লঞ্চেই  হারুনের  বাবা ওঠে। ওপরের কেবিনে। রাগে, দুঃখে বাবার মন ভীষণ খারাপ। ভাবলেন একটু নামাজ পড়বেন, তাহলে ভালো লাগবে। একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন বাবা। স্বপ্নে দেখলেন হারুন এসে  বলছে  বাবা আমাকে বিদায় দেন, মা ডাকছে! ধড়ফড়িয়ে জেগে উঠেন বাবা। কেন এমন স্বপ্ন দেখলেন, দুর্ভাবনা ভর করে মাথায়। বাড়ি গিয়ে শুনলেন হারুন লঞ্চে চলে গেছে। হারুনের বাবা বললেন, তিনি তো দেখেন নি নামতে, হারুনের নানু বললেন। হয়তো অন্য পথে নেমে গেছে। আশ্বস্ত  হয়ে শুতে গেলেন হারুনের বাবা।

ওদিকে, একসময় লঞ্চের লোকেরা দেখতে পায় হারুনকে। গাছের নিচে বসিয়ে রেখে চলে যায়। পাশ দিয়ে যাওয়া জেলেরা দেখে হারুনের খুবই খারাপ অবস্থা। জেলেরা গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। তখন একটু একটু বলতে থাকে নাম ও ঠিকানা। সবাই তখন ডাক্তার বাড়ি থেকে হারুনের নানা বাড়ি যায়। বাবা শুতে যাবেন এমন সময় ওরা এসে বলে হারুনের কে আছে! দেখতে চাইলে তাড়াতাড়ি যেতে বলেন তারা। হারুনের বাবা চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন, কী হয়েছে আমার হারুনের, বলে ছুটে বের হয়ে যান। গিয়ে দেখেন হারুন অস্ফুট স্বরে বলছে, সবাই সরে যান; আম্মা নিতে আসছে আমাকে। তারপর, তারপর সব শেষ। বাবা তার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে চিৎকার করছেন আর ডাকছেন, ফিরে আয় হারুন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর