× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

যেমন চলছে ওদের লেখাপড়া ফুলবাড়ী

বাংলারজমিন

| ২১ এপ্রিল ২০১৯, রবিবার, ৯:০৮


রবিউল ইসলাম বেলাল, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) থেকে : স্কুল ঘর জরাজীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীদের উপস্থিতি কম ব্যহত হতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।  প্রধান শিক্ষক ভাঙা একটি টিনসেড ঘরে চালাচ্ছেন তার অফিস।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে  গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধসে ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায় জানালেন, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মনে হচ্ছে দুর্ঘটনা ঘটলো। আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। অন্যদিকে ক্লাসও বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
ভবন নির্মাণ না হওয়ায় নিরূপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা এবং বিদ্যালয়ের ১৯৬৩ সালের নির্মিত পুরানো টিনসেড ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম। সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া খাতুন জানালেন, ভয়ে ভয়ে ক্লাস নিচ্ছি জানিনা কখন দূর্ঘটনার শিকার হই। ৫ম শ্রেণীর ফুয়াদ মাহমুদ ও ৩য় শ্রেণীর মুবতাসিন জানায়, বিদ্যালয়ের ছাঁদ ফেটেছে। ভেঁঙ্গে পরতে পারে। ফলে ভবনে আর আমরা ক্লাস করি না। খোলা আকাশের নীচে ও কোন কোন সময় বারান্দায় ক্লাস করছি। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফলে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আখতারুল ইসলাম জানান, ভবন ঝুঁকি বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভবনের বিষয়টি অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে।
সৈয়দপুর

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বঙ্গবন্ধু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টির শ্রেণী কক্ষের টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকায় বঙ্গবন্ধু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ রাবেয়া আলীমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপির ক্রয় করে দেয়া জমিতে বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন। শুরু থেকে বিদ্যালয়টি গুণগত ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সারথী রানী রায় জানান, বৈশাখী ঝড়ে শ্রেণীকক্ষগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে শ্রেণীকক্ষগুলোর টিনের চালা ও বেড়া একেবারে দুমড়েমুচড়ে গেছে। পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ না থাকায় অনেকটাই বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করাতে হচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান মন্ডল জানান, বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয়টি বেসরকারি হলেও আমরা সরকারিভাবে বিনামূল্যের বই সরবরাহসহ সার্বিক দেখভাল করি। শুরু থেকেই বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক। আমরা বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের জন্য প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আশা করি অতি শিগগিরই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়ে যাবে।
ইন্দুরকানী
মো. হাফিজুর রহমান, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : স্কুল ভবন জড়াজীর্ণ ও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তারপরও ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই ভবনে এখন ভয়ে কেউ ঢুকছে না। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছেন। এ চিত্র পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের ২১ নং দক্ষিণ কালাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এ বিদ্যালয়টি ১৯৪০ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়টি একেবারে জরাজীর্ণ, ছাদ ভেঙ্গে পড়ছে, দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, প্লাস্টার খসে পড়ছে, ফ্লোর ভেঙ্গে গেছে এবং কয়েক স্থানে ফ্লোর দেবে গেছে। এ অবস্থা চললেও এখন পর্যন্ত ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শ্রেণি কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে বিদ্যালয় মাঠে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থী কমে গেছে বলে শিক্ষকরা জানান।

গত বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনটি একেবারে জরাজীর্ণ। শিক্ষকরা খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে পাঠদান করাচ্ছেন। নতুন ভবনের জন্য অনেকবার আবেদন করলেও নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া উপজেলার ৬নং পশ্চিম চাড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯নং উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮ নং চরণী পত্তাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫নং মধ্য কালাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩১ নং পূর্ব চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ নং পশ্চিম বালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৮টি বিদ্যালয়ের ভবন একেবারে জড়াজীর্ণ। ২১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম লোকমান হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি একেবারে জরাজীর্ণ। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। ভবন না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী রানী দাস জানান, ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে বলা হয়েছে। পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই বিদ্যালয়টির নাম তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান চালিয়ে রাখার জন্য দ্রুত ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর