× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

রাজধানীতে বেপরোয়া বাসের চাপায় প্রাণ গেল ২ জনের

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার, ৯:২৮

সকাল সাড়ে সাতটা। রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এই সুযোগে শাহবাগ থেকে পাল্লা দিয়ে  বেপরোয়া গতিতে আসছিলো মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহন ও পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি বাস। কিন্তু মৎস্য ভবন মোড়ে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্বাধীন পরিবহনের বাসটি ধাক্কা দেয় একটি প্রাইভেট কারকে। এসময় জাতীয় প্রেসক্লাব, কাকরাইল ও শিল্পকলা একাডেমির দিক থেকে আসা তিনটি প্রাইভেটকার ও স্বাধীন পরিবহনের মধ্যে চতুর্মূখী সংঘর্ষ হয়। এদের ধাক্কায় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা রিকশাটিও দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে প্রাণ হারায় রিকশার চালক। মেডিকেলে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নিহত অপরজন ফুল বিক্রেতা বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দুই জন। স্বাধীন পরিবহনের চালক এবং গাড়ি আটক করা হয়েছে।

নিহত রিকশাচালক সুমন (২৫) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার রনগুন্ডাপাড়া গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পরিবারের সদস্যরা এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত রিকশা চালক সুমন ভোর ছয়টার দিকে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন।

নিহতদের উদ্ধার করেন স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী মনির হোসেন। তিনি থাকেন মিরপুর ১২ নম্বরে। পেশায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। স্বাধীন বাসে করে মনির হোসেন যাচ্ছিলেন গুলিস্তানে। মনির হোসেন মানবজমিনকে বলেন, বাসটি দুর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার পরই আমি জানালা দিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ি। নেমেই শুনতে পাই বাসের নিচ থেকে একজনের কান্নার আওয়াজ। পরে ওই লোককে আরো কয়েকজনের সহায়তায় নিচ থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে নিলে কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার খান বলেন, ওই সময় মৎস্যভবন মোড় দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম। এসময় স্বাধীন পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এতে চারটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্বাধীন বাসটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাসটির সামনের অংশ চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। বাসের সামনে বসা সব যাত্রীই আহত হয়েছে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ ট্রাফিক পুলিশের ডিসি এস এম মুরাদ আলী বলেন, স্বাধীন পরিবহন এবং ড্রাইভারকে আটক করে রমনা থানায় নেয়া হয়েছে। রমনা থানার পরিদর্শক (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, স্বাধীন পরিবহনের চালককে আটক করা হয়েছে। তার নামে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর নিহত দুইজনের মধ্যে একজন রিকশাচালক ও আরেকজন ফুল বিক্রেতা বলে আমরা জানতে পেরেছি।  তবে এখনো আমাদের কাছে তাদের আত্মীয় স্বজনরা কেউই আসেনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর