× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

অভিনেত্রীর যৌন ধর্মঘটের আহ্বান, অতঃপর...

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ মে ২০১৯, সোমবার, ৯:৫১

গর্ভপাত বিরোধী একটি আইন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায়। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘হার্টবিট বিল’। এ আইনের অধীনে কোনো নারী অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত ঘটাতে পারবেন না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অভিনেত্রী ও মি-টু আন্দোলনের কর্মী অ্যালিসিয়া মিলানো। তিনি নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ আইনের বিরুদ্ধে ‘সেক্স স্ট্রাইক বা যৌন ধর্মঘট’ করতে। নারীদের তার নিজের শরীরের ওপর অধিকার আছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন তিনি। তাই এক টুইটে লিখেছেন, মেয়েরা যতক্ষণ নিজের শরীরের ওপর আইনগত অধিকার না পাবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা গর্ভধারণের ঝুঁকি নিতে পারে না। তার এ টুইটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এর পক্ষে ও বিপক্ষে বেশ মন্তব্য করছেন টুইটার ব্যবহারকারীরা। হ্যাসট্যাগ #সেক্স স্ট্রাইক-এ অনেকে টুইট করছেন। এ খবর দিয়ে বিবিসি জানাচ্ছে, ‘হার্টবিট বিল’-এ মঙ্গলবার স্বাক্ষর করেছেন জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প। এ আইনটি কার্যকর হবে আগামী বছরের প্রথম দিন থেকে। বিবিসি লিখেছে, অ্যালিসা মিলানো তার টুইটে লিখেছেন, আমাদের প্রজনন অধিকার বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। যতদিন শরীরের ওপর নারীর আইনগত নিয়ন্ত্রণ না আসবে, ততদিন আমরা গর্ভধারণের ঝুঁকি নিতে পারি না। শরীরের স্বায়ত্তশাসন ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক করা থেকে বিরত থেকে, আমার সাথে যোগ দিন।

নতুন এ আইনে মায়ের গর্ভধারণের পর ভ্রুণের হার্ট-বিট পাওয়ার পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণত গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহ পর গর্ভজাত শিশুর হার্ট-বিট তৈরি হয়। যদিও অনেক সময় নারীরা কিছুটা লক্ষ্মণ ছাড়া ছয় সপ্তাহে টেরই পান না যে তিনি গর্ভধারণ করেছেন। এমনকি মর্নিং সিকনেস নামে গর্ভধারণের পর যে শারীরিক লক্ষ্মণ প্রকাশ পায় তাও টের পেতে ৯ সপ্তাহ সময় লাগে। নতুন এ আইনটি অবশ্য আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এর আগে কেন্টাকিতে একজন বিচারক এমন একটি আইন আটকে দিয়েছিলেন। মিসিসিপি রাজ্যেও এমন আইন পাস হয়েছে। তাও আদালতে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে।

অভিনেত্রী মিস মিলানো শনিবার টুইটটি করেছেন। এরপর তিনি নিজে ও তার তৈরী হ্যাশট্যাগ #সেক্স স্ট্রাইক টুইটারে অনেকটা ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছেন। প্রায় ৩৫ হাজার লাইক আর ১২ হাজার বার রি-টুইট হয়েছে তার টুইট। অভিনেত্রী বেটি মিডলারও মিস মিলানোকে সমর্থন করে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি আশা করি জর্জিয়ার নারীরা যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকবেন, এমন লজ্জার বিষয়টি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত।

অনেকে আবার এ ধারণার সমালোচনা করছেন। একজন লিখেছেন সেক্স স্ট্রাইক একটি খারাপ ও যৌনময় আইডিয়া। এর আগে আইনটি পাসের সময় ৫০ জন অভিনেতা ওই রাজ্যে ফিল্ম ও টেলিভিশন প্রডাকশন বয়কটের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্য অভিনেতারাও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন। যদিও অনেকেই আবার এর বাইরে রয়েছেন। মোশন পিকচার্স এসোসিয়েশন এর মুখপাত্র ক্রিস অর্টম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, জর্জিয়ায় ফিল্ম ও টেলিভিশন প্রডাকশনের সাথে ৯২ হাজার চাকরির বিষয় জড়িত। গভর্নরের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ফিল্ম ও টেলিভিশন প্রডাকশন ইন্ডাস্ট্রি ২০১৮ সালে দুই দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার আয় করেছিলো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর