× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার

বিয়ের জন্য মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা

বাংলারজমিন

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া থেকে | ১৫ মে ২০১৯, বুধবার, ৯:০৯

উখিয়া উপজেলার সাগর উপকূলীয় জনপদ মো. মফির বিল, মনখালী, ছপটখালীসহ রেজুখালের চরপাড়া এখন সাগর পথে মানব পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। সোমবার ১৩ই মে দিবাগত রাত ৩টা দিকে ইনানী পুলিশ চরপাড়া ব্রিজের নিচে নৌকায় উঠতে অপেক্ষমাণ ১৭ জন নারী, ৪ জন শিশু ও ২ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করছে।
আটককৃতদের মধ্যে বালুখালী ১নং ক্যাম্প ১৬নং ব্লকের বাসিন্দা সাবেকুন নাহার (১৬) বলেন, তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালের সহযোগিতায় এখান পর্যন্ত এসেছেন। তাদের বিভিন্ন প্রলোভন ও উন্নত জীবন যাপনের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কন্টাক নিয়েছেন এক মহিলা। তবে ঐ রোহিঙ্গা মহিলা দালালের নাম বলতে পারেননি। বালুখালী জামতলী ব্লক-১ এর বাসিন্দা হামিদুর রহমান (২০) জানায়, তাদের আত্মীয়স্বজন মালয়েশিয়ায় রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী মালয়েশিয়া পারি জমাতে দালালের কথামত চড়পাড়া ব্রিজ এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশ না ধরলে হয়তো দালালরা নৌকায় তুলে দিত।
কিন্তু মালয়েশিয়া যাওয়া হলো না। এদিকে পাচারের সময় যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই যুবতী। যাদের বেশির ভাগই মালয়েশিয়া বিয়ে করার জন্য যাচ্ছিল। মালয়েশিয়া থেকে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর সেখান থেকে দালালদের মাধ্যমে সুন্দরী যুবতী সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা যুবকরা নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা যুবতীদের। এক্ষেত্রে যাবতীয় খরচপাতি মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী যুবকরাই বহন করে। এ ব্যাপারে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিদ্ধার্থ সাহার সঙ্গে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন রোহিঙ্গারা স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বালুখালী ও জামতলী ক্যাম্প থেকে চড়পাড়া পর্যন্ত এসেছে। দালালের কোনো খোঁজ খবর পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা দালালের নাম বলতে পারছে না। আটক রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ইনচার্জের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন জনগণ অভিযোগ করে  জানান, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে দালাল ছিল ঐ দালালের পরিচয় এলাকার সবাই জানে। এমনকি রোহিঙ্গারাও জানে। কি কারনে দালালকে ঘটনার অন্তরালে রাখা হচ্ছে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বালুখালী ক্যাম্পের আনোয়ার মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় দালালেরা ক্যাম্পে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে মালেশিয়ায় লোকজন পাঠানোর শলাপরামর্শ করছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত যুবক রোহিঙ্গাদের জন্য রোহিঙ্গা মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের যাবতীয় খরচপাতি মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ মালয়েশিয়ায় চলে গেছে বলে স্বীকার করলেও তিনি নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর