× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার

খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি সরকার: রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মে ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৬

সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অকুতোভয় আপসহীন সংগ্রামী, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি বর্তমান জনধিকৃত মধ্যরাতের সরকার। সুচিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে ভয়ঙ্কর নীলনকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। পুরো আইনি প্রক্রিয়াতে প্রতিহিংসাপরায়ণতা আর জিঘাংসায় ভরপুর। দেশনেত্রীর প্রাণকে হুমকির মুখে ফেলে রেখে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত বসাতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান।
সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, লোভ-মোহ, প্রতিহিংসা-জিঘাংসা থেকে আত্মশুদ্ধি-আত্মসংযমের প্রশিক্ষণের মাস এই রমজান। মানুষ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তার বিধান মেনে রোজা পালন করেন। আল্লাহভীতি তৈরি হয় মানুষের মধ্যে। মানুষ পরকালের কথা ভেবে নিজেকে শুধরে নেয়। কিন্তু এই পবিত্র মাসেও মিডনাইট নির্বাচনের সরকার ও সরকার প্রধানের মধ্যে রমজানের মাহাত্ম্যের লেশমাত্র নেই। প্রতিহিংসাপরায়ণতা, দাম্ভিকতা, নৃশংসতা, নির্দয় ও মানবতাহীনতা তাদের তীব্রভাবে ঘিরে রেখেছে। এই সরকারই গণতন্ত্রকে ছিন্নমূল করেছে। তিনি বলেন, আদালতকে কুক্ষিগত করে খালেদা জিয়ার জামিনে পদে পদে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। তার জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছেন এবার সেই ‘ডার্টি গেইম’ বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদালতের স্বাধীনতাকে কারাগারে বন্দী করবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। আপনাদের বর্বর মতলব জনগণের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। জনগণ আর আপনাদেরকে রেহাই দেবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার যদি বারবার দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয় তবে রাজপথেই হবে ফয়সালা। অন্যায়কারী-জুলুমবাজরা কখনো বিজয়ী হতে পারেনি। এই মধ্যরাতের সরকারও পারবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নামে ১৭টি মিথ্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব করে সরকার তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আগুন নিয়ে আর খেলবেন না। এই হিংসার আগুনে একদিন হয়তো আপনাদের নিজেদেরই সর্বনাশ হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় নেত্রী, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছেন এবার সেই ‘ডার্টি গেইম’ বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন।  
রিজভী আহমেদ বলেন, এখন বাংলাদেশের সকল জনগণ একদিকে আর বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আরেক দিকে। দিনের শেষে জনগণের বিজয় অবসম্ভাবী। তিনি বলেন, দেশে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তাদের এখন নাভিশ্বাস উঠছে। ধান চাষ করে লোকসান দিয়ে তাদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। কৃষকের ঘরে ঘরে এখন হাহাকার। এই মিডনাইট ইলেকশনের সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের মূল্য বৃদ্ধিসহ কৃষকদের প্রতি উদাসীনতার কারণে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। তিনি বলেন, প্রতি মন ইরি-বোরো ধানে লোকসান দিচ্ছেন ২০০ টাকা করে। বর্গাচাষিরা সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিঘা প্রতি জমিতে লোকসান দিচ্ছে ৫ হাজার টাকা। লোকসানের পর ব্যাংক ঋণ, এনজিও’র কিস্তি, মহাজন ও সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীদের দেনা শোধ করা দায় হয়ে পড়েছে। নানা ঋণে জর্জরিত কৃষক ক্ষোভে দুঃখে কষ্টে ধানের দাম না পেয়ে পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছেন, বিক্ষোভ করছেন। সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ধান ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এই ভোটারহীন ভুয়া সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের এমন অভিনব প্রতিবাদ দেখে দেশের মানুষ আজ বেদনাহত। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর