× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার

জাবির শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিতর্কিত ধারা, নিন্দার ঝড়

শিক্ষাঙ্গন

জাবি প্রতিনিধি | ২০ মে ২০১৯, সোমবার, ৪:১৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সংশোধিত অধ্যাদেশে যুক্ত হওয়া নতুন দুটি ধারা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক বলছেন, তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতেই ধারা দুটি যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত এক রায়ের পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধিকে ‘দুর্বল ও সেকেলে’ উল্লেখ করে তা হালনাগাদের পরামর্শ দেয়। শৃঙ্খলাবিধির  প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করতে ওই বছরের ১৬ মে তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটির হালনাগাদ করা শৃঙ্খলাবিধি গত ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাদেশ হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশের ৫-এর (ঞ) নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনও সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না।’
৫-এর (থ) নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ছাত্র/ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টানেটের মাধ্যমে কোনও অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্ত্যক্ত করবে না।’

অধ্যাদেশ মতে, ধারা দুটির ব্যত্যয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে। এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার উর্ধ্বে যেকোনও পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।         

আইনজীবি ও বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের আচরণবিধি অংশে উল্লেখিত ৫(ঞ) এবং ৫(থ) ধারা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা এবং অনুচ্ছেদ ৪০  পেশা বৃত্তির স্বাধীনতার পরিপন্থী। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর হুমকি হতে পারে  এই ধারা।

অসত্য, তথ্য বিকৃতি, আশালীন বার্তা বা অসৌজন্যতামুলক বার্তার কোন সংজ্ঞা কিংবা ব্যাখ্যা না থাকবার কারণে ধারা দুটি নিপীড়নমূলক হয়ে উঠতে পারে এবং উঠবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অসত্য কিংবা বিকৃত তথ্য প্রকাশ বা ছড়ানোর বিষয়ে যথাযথ আইন রয়েছে।
এরপরেও এই ধরনের ধারা সংযোজন আপাত:দৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কিছু গোপন করবার কিংবা গোপন রাখবার প্রয়াস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। তাই এর অভ্যন্তরে কি ঘটছে তা জানবার অধিকার জনমানুষের রয়েছে। এ ধরণের আইন প্রণয়ন সেই স্বচ্ছতার পথে পরোক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রে ভিন্নমত দমনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এই ধরনের আইন এবং তার প্রণয়ন তারই সম্প্রসারণ বলে মনে করি।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন,‘এই ধারা গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা চেষ্টা। আমি এই প্রেক্ষিতে সবাইকে ফের জাকসু নিয়ে সরব হতে বলব। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার প্লাটফরম নাই। জাকসু থাকলে এইসব বিষয় প্রশাসনের সাথে বসে সমাধান করা যেত।’

এদিকে এই ধারাকে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করার আইন উল্লেখ করে প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট,ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘সংযোজিত ধারা প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের কন্ঠ চেপে ধরার অপচেষ্টা। বিশ^বিদ্যালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি বিরুদ্ধে যাতে শিক্ষার্থীদের কথা না বলে সে লক্ষ্যে এই ধারা তৈরী করা হয়েছে। এই ধারা শিগগিরই সংশোধন করার দাবি জানাই।’

জাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ বলেন, সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে বিধি দুটি যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি, দুর্বৃত্তপনার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা সবসময় সোচ্চার। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই এই উদ্যোগ। অবিলম্বে এটি বাতিল করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সহ-সভাপতি অলিউর রহমান সান বলেন, তথ্যের অসততা বা বিকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্ধারণ করে দেয়ায় ক্ষমতার বিরুদ্ধে পর্যালোচনামূলক সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। আর অসৌজন্যতা-অশ্লীলতা সাংস্কৃতিকভাবে পরিবর্তনশীল এবং পরিপেক্ষিত সাপেক্ষ। ফলে নিপীড়নের বদলে অশ্লীলতা ও অসৌজন্যতার দোহাই দিয়ে ধারা প্রণয়ন নিপীড়নকে আড়াল করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ হয়নি। নতুন বর্ষের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে তাড়াহুড়া করে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সেখানে সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পক্ষের আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান হতে পারে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর