× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ জুন ২০১৯, সোমবার

খালেদা জিয়ার অবস্থা বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে- রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৪২

 বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা বিপদজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী গত চারদিন কোন রকমে জাও ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর মুখে ঘা হয়ে ফুলে গেছে। জিহ্বা নাড়াতে পারছেন না। তিনি শয্যাশায়ী। এই রমজানে জেলে তাঁর অবস্থা বিপদজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। তিনি বলেন, এদেশের মাটি ও মানুষের প্রাণাধিক প্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসা ও জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্য বন্দি করে রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অন্যায়ভাবে ‘গণতন্ত্রের মা’-কে বন্দী করে মিডনাইট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আজীবন জেলে রাখার প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করছেন।
যা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জেনে গেছে। আইনী প্রক্রিয়া ও প্রশাসনকে আঁচল বন্দী করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। অমানবিক কায়দায় তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের নীলনকশা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির এ নেতা বলেন, মানুষের স্বল্পায়ু এক ছোট্ট জীবনে অবৈধ ক্ষমতার মসনদে বসে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে সরকার। মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য-উপহাস করছে। বড়াই আর অহংকার করছে! চুয়াত্তর বছর বয়সী ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রীর ভয়াবহ অসুস্থতা নিয়ে এই সংযম-সাধনার মাসেও ‘আয়েশ-পায়েশ’ বলে হাসি-তামাশা করছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। কিভাবে সম্ভব একজন অসুস্থ জাতীয় নেত্রীকে নিয়ে এমন নিষ্ঠুর আচরন করা?
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আপনি হত্যা করতে চাচ্ছেন। লন্ডনে আপনার মনের আসল কথা প্রকাশ করেছেন। দেশে এসে আপনার বক্তৃতা ও খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার কঠোর পদক্ষেপে সেটিরই প্রতিফলন নগ্নভাবে উন্মোচিত হয়েছে। আইনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করা, সাজানো মামলা দিয়ে প্রহসনের বিচারে খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দেয়া সবকিছু আপনি নিজেই করেছেন। এটি আপনার কথাতেই জনগণ নিশ্চিত হয়েছে।

এখন আর কোনো টালবাহানা-মিথ্যাচার-আষাঢ়ে গল্প বানিয়ে দেশনেত্রীকে জেলে রাখতে পারবেন না। জনগণের সামনে আপনার সব কুমতলব ফাঁস হয়ে গেছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে খালেদা জিয়াকে আপনার প্রতিহিংসাপরায়ণতার জিঞ্জির থেকে মুক্ত করে দিন। দেশের মানুষকে আর ক্ষিপ্ত করবেন না। আজই দেশের সকল মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তি চায়।
রিজভী আহমেদ বলেন, গণতন্ত্রের এই অকাল প্রয়াণে শোক জানাতেও মানুষ ভয় পাচ্ছে। কারণ গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যার রক্তপাতের মাধ্যমে যে পিশাচের রাজত্ব কায়েম হয়েছে তাতে মানুষ শঙ্কিত। আইনের শাসনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশব্যাপী। সুতরাং দুঃশাসনের অবসান না হলে দেশে ভয়ের শাসনই জারি থাকবে। সেজন্য ‘গণতন্ত্রের মা’-কে কারামুক্ত করাই এখন গণতান্ত্রিক শক্তির প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশ যে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে তার প্রমাণ ব্যাংক বীমা, কয়লা-পাথর, শেয়ার মার্কেট গলধঃকরণের পর এখন রূপপুর আনবিক প্রকল্পের সাগর চুরির দুর্নীতির খবরে বিস্মিত দেশবাসী। উন্নয়নের কথা বলে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে মহাদুর্নীতির ওপর ভর করে। রূপপুর আনবিক প্রকল্পে বালিশ-কেটলীসহ প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কেনার মহাদুর্নীতির খবরে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত মালি-ড্রাইভারদের বেতন লাখ টাকার কাছাকাছি। যা শুধু নজীরবিহীনই নয় এটি একটি জাহাজ মার্কা দুর্নীতিরই দৃষ্টান্ত। এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবরে দুদকের কোনো তৎপরতা নেই। কারণ দুদক বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমন এবং ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি মোছার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। এসময় তিনি বলেন, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও ২৩শে মে ইউনিয়ন পর্যায়ে মানববন্ধন করবে বিএনপি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, দপ্তর বিষয়কক সহ সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর