× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

ঈদের অগ্রিম টিকিট উধাও

দেশ বিদেশ

আব্দুল আলীম ও মারুফ কিবরিয়া | ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:০৫

ঈদযাত্রার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে শুক্রবার। বিক্রি চলার কথা ঈদের ছুটি শুরুর আগ পর্যন্ত। তবে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সব টিকিট উধাও। একদিন আগে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী সিট পাননি অধিকাংশ যাত্রী। এসি গাড়ির টিকিট প্রত্যাশী অনেককেই কিনতে হয়েছে সাধারণ টিকিট। কাঙ্খিত টিকিট না পেয়ে অনেকেই পরিবার পাঠিয়ে দিতে শুরু করেছেন এখনই। রোববার গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর ও রাজধানীর অন্যান্য বাস টার্মিনালে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। শুধু বাস নয়, গতকাল থেকে শুরু হওয়া লঞ্চের আগাম টিকিটের হালও অনেকটা একই।
ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ লঞ্চের টিকিট আগাম বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও কাল সেটা শুরু হয়নি।
স্ত্রী ও সন্তানকে উঠিয়ে দিতে বেসরকারি চাকরিজীবী এহসানুল হক এসেছিলেন শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস কাউন্টারে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সকালে স্ত্রী-সন্তানকে নওগাঁর বাসে উঠিয়ে দিয়েছি। ঈদের ছুটির কাছাকাছি সময়ের টিকিট না পেয়ে ঝামেলা এড়াতে স্ত্রী-সন্তানকে আগেভাগে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি। হাফিজুর রহমান নামের এক এনজিও কর্মী বলেন, ঈদের ছুটি পাব কিনা জানিনা। পেলে বাড়ি যাব। তবে ঝামেলা এড়াতে আগে ভাগেই মা এবং স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। শুধু এহসানুল ও হাফিজুরই নন, অনেকেই ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে ঈদের আগে বাড়ি ফিরছেন। চাকরিজীবীরা নিজে ফিরতে না পারলেও পরিবার পাঠিয়ে দিচ্ছেন। হানিফ পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টার মাস্টার বাবুল মিয়া জানান, ঈদ উপলক্ষে আমরা গাবতলী থেকে খালি থাকা শর্তে টিকিট বিক্রি করছি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঈদের টিকিট পাওয়া যায়। সধারণত সকালে ও সন্ধ্যার পর নিয়মিত যাত্রীদের সংখ্যা বেশি। ডিপজল পরিবহনের টিকিট মাস্টার আকমল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে অনেকেই বাড়ি যাচ্ছেন। এখনই অনেকটা চাপ শুরু হয়েছে। তবে ঈদের তিন দিন আগ পর্যন্ত টিকিট শেষ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, শুক্রবার রাত ৩ টায় টিকিট কিনতে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে সকাল ৮ টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার একটি টিকিট পাই। তবে ৩০০ টাকার টিকিট কিনতে হয়েছে ৪২০ টাকায়। একইভাবে এসি বাসের টিকেট ৭০০ টাকার বদলে নেয়া হয়েছে ১৩০০ টাকা। জাহাঙ্গীর হোসেন নামের অপর এক যাত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে নঁওগার টিকিট কিনেছি। তবে ৪০০ টাকার টিকিটের দাম নিয়েছে ৫৯০ টাকা। গতকাল ঈগল পরিবহনের গাবতলী কাউন্টার মাস্টার আরমান আলী বলেন, আমরা অনলাইনে টিকিট বিক্রি করে থাকি। তাই খালি থাকা শর্তে টিকিট দেয়া হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদের দুই তিন দিন আগের কোনো টিকিট এখন আর নেই। সব বিক্রি হয়ে গেছে। কল্যাণপুরের কয়েকটি কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়Ñ ২, ৩ ও ৪ই জুনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তবে ২৯ ও ৩০শে মে’র টিকিট দুই একটা পাওয়া যাচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে ১৭ই মে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের মতো মানিকনগর, সায়েদাবাদসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অগ্রিম বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টানা দুইদিন টিকিট বিক্রি হয় আগামী ৩ ও ৪ঠা জুন ঢাকা থেকে ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ বেশকিছু এলাকায় ছেড়ে যাওয়া বাসের। টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা অনেকেই কাউন্টারে এসে হয়েছেন হয়রানির শিকার। ওই দুইদিনের টিকিট পাননি বেশ কয়েকজন যাত্রী। সেহেরি শেষ করে এসে অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। বাসের টিকিট প্রত্যাশী ওই যাত্রীরা জানিয়েছেন, ৩রা ও ৪ঠা জুনের টিকিটের জন্য এসে ওই দুদিনের টিকিট পাননি। অনেকেই নিজের পছন্দের আসন না পেয়েও অভিযোগ করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের প্রথম সারির এ ও বি সিরিয়ালের টিকিট কাউন্টারম্যানরা ইচ্ছাকৃত ভিআইপিদের জন্য রেখে দিয়েছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ গরমের কথা চিন্তা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের টিকিট চেয়েও পাননি।
কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানি আগাম টিকিট ছাড়লেও সেটা সংখ্যায় খুব সীমিত আকারে ছেড়েছেন। যাতে ঈদের সময় চড়া দামে সেসব বিক্রি করতে পারেন। রাজধানী থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া স্টারলাইন ও এনা বাসের কাউন্টারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ যাত্রীর চাহিদা ৩০শে মে থেকে ৩রা জুনের মধ্যে টিকিট।
১৭ই মে থেকে রোববার পর্যন্ত রাজধানীর মানিকনগর টিটি পাড়া, সায়েদাবাদ, মহাখালীসহ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। ঈদে পরিবার নিয়ে ফেনী যাবেন জাভেদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তার লক্ষ্য ৩রা জুন গ্রামে যাবেন সবাইকে নিয়ে। ওই দিনের জন্য ৫টি সিট চেয়ে জাভেদ পেয়েছেন মাত্র দুটি। জাভেদ বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঈদে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তুএকসঙ্গে যাওয়া হচ্ছে না। টিকিট পেয়েছি মাত্র দুই সিটের জন্য। এখন স্ত্রী আর মেয়েকে ৩রা জুন পাঠালে আমি ছেলে দুটোকে নিয়ে ঈদের আগে কোনোভাবে যেতে হবে।
নোয়াখালীতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট চেয়ে এসে রীতিমত হতাশ আদনান নামের আরেক টিকিট প্রত্যাশী। শনিবার সকাল থেকে টানা চারঘন্টা দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি বলে অভিযোগ তার। আদনান মানবজমিনকে বলেন, প্রথম ধাপেই টিকিট মিললো না। পরের ধাপে ২২শে মে আবার ছাড়বে। পেতেও পারি নাও পেতে পারি। আমার কথা হলো যাত্রী অনুযায়ী তাদের টিকিট গুলো যায় কোথায়। নোয়াখালীর সেনবাগের জন্য আগাম টিকিট পেতে মাহফুজ নামের এক যাত্রী বলেন, এদের (বাস কোম্পানি) কাছে আমরা জিম্মি। প্রতিবছর টিকিট নিয়ে নাটক করে। ৪শ’ টাকার ভাড়া ৬শ’ থেকে সাতশ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য রেখে দেয়। এবারো তাই করছে। সবাই সিন্ডিকেট। প্রতিটা বাসের কাউন্টারে একইভাবে টিকিট দেয়।
রংপুরের টিকিট কিনতে মহাখালী বাস টার্মিনালে এনা পরিবহনের কাউন্টারে যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। টিকিট বিক্রি তখনো শুরু হয়নি। যাত্রীরা জানান, হিনো এসি বাসের টিকিট অন্য সময় ৭০০ টাকা হলেও কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে ১২০০ টাকায় কিনতে হবে। হুন্দাই এসি বাসের টিকিট ১২০০ টাকা হলেও এখন কিনতে হবে ২ হাজার টাকায়। আরিফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, প্রতি টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। ঈদের সময় যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া বাড়িয়ে নেয়। বাড়তি ভাড়া রাখার বিষয়ে এনা পরিবহনের সেলস এক্সিকিউটিভ আহমেদ বাবু জানান, ২৭শে মে’র পরের তারিখের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। রংপুরের ভাড়া হিনো এসি গাড়িতে ৭০০ হলেও এখন ১২০০ রাখা হচ্ছে। অপরদিকে হুন্দাই এসি গাড়ির ভাড়া ১২০০ টাকার স্থলে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর কারণ ঈদের আগে যেসব গাড়ি গন্তব্যে যাবে, সেসব গাড়ি খালি আসবে। তাই অগ্রিম টিকিটে বাড়তি ভাড়া রাখা হচ্ছে। এদিকে মানিকনগরের হিমাচল বাসের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুপুর বারোটার মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে গেছে। টিকিট কিনতে গিয়ে না পেয়ে হারুণ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, পরিবারসহ ৩ তারিখ বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। ওইদিনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। সকাল দশটা থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। পরের ধাপে আবার দেয়া হবে বলেও জানায়। কিন্তু আমার ৩ তারিখেই যাওয়া লাগবে। আমি জানি প্রতিবছর এরা প্রথম দিকে অল্প কিছু টিকিট বিক্রি করে। আর ঈদের দুই বা তিন দিন আগে কাউন্টার থেকে সরাসরি বিক্রি করে চড়া দামে। এই চড়া দামের জন্যই প্রথম ধাপে টিকিট ছাড়ে না।
অপরদিকে, শনিবার ১১টায় শ্যামলী এসপি পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা কামরুল ইসলাম জানান, তাদের ২রা জুনের পরের তারিখের কোনো টিকিট নেই। সকাল ৬টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, ৩রা জুনের সব টিকিট শেষ। যাত্রীরা জানান, ৩০শে মে ও ৩রা জুনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর কারণ ৩০শে মে (২৪ রমজান) বৃহস্পতিবার। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ৩০শে মে’র টিকিট চাচ্ছেন অনেক যাত্রী। এদিকে গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। লঞ্চ মালিকরা টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ লঞ্চের টিকিট আগেই বুকিং করে ফেলায় এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে লঞ্চ মালিকরা। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সরজমিনে দেখা যায়, অনেকে টিকিট প্রত্যাশী টিকিট না পেয়ে হতাশ। যাত্রীদের অভিযোগ লঞ্চের মালিকরা আগেই টিকিট বুকিংয়ের কাজ শেষ করেছেন। এরশাদ নামের একজন বলেন, লঞ্চের কেবিনের জন্যই মূলত আসা। এখন সকাল এগারোটায় এসে দেখি একটাও নেই। পারাবাত-১২’র টিকিটের জন্য গেলাম তারা বললো সন্ধ্যায় যেতে। অপু হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, লঞ্চ মালিকরা একশ’টা কেবিনের ৪০টা বিক্রি করে। আর বাকিগুলো হাতে রেখে দেয়। যাতে ঈদের সময় চড়া দামে বিক্রি করতে পারে। আমার একটা ডবল কেবিন দরকার। দুপুর ১২টায় এসেছি। ভেবেছিলাম এই সময়টা একটু নিরিবিলি থাকে সহজে পাওয়া যাবে। কিন্তু এসে দেখি কোনো টিকিট নেই। ৪ঠা জুনের জন্য সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগাম কেবিনের টিকিট সকালে একদফা বিক্রি হয়েছে। বাকিটা ইফতারের পর দেয়া হবে। তবে বেশিরভাগ লঞ্চেরই টিকিট শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে ঝালকাঠিতে যাওয়া সুন্দরবনের সুপারভাইজার মিলন জানান, ঈদের আগাম কেবিনের টিকিট অনেকেই ফোনের মাধ্যমে ঠিক করে নিয়েছেন। এখন শুধু লঞ্চঘাটে এসে টিকিট নিয়ে যাবে। ঢাকা থেকে বরিশাল রুটের সুরভী-৮ লঞ্চের এক কেরানিক জানিয়েছেন, ঈদ যাত্রায় কেবিনের জন্য আগাম বুকিং আগেই দেয়া হয়েছে। এই লঞ্চে একশ’টি কেবিন থাকলেও যাত্রী থাকে ৫’শর বেশি। সেজন্য কোম্পানির মালিক লটারির মাধ্যমে টিকিট দিয়ে থাকেন। বাকিদের ডেকে চড়ে যেতে হয়। এছাড়া উপায় থাকে না। ঈদের সময় বলে চাপ বেশি থাকে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর