× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

ঢাকা ওয়াসার ৩৪ পয়েন্টের পানি পরীক্ষার নির্দেশ: হাইকোর্ট

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ মে ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৬

ঢাকা ওয়াসার পানির ৪টি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ) পয়েন্ট, ১০টি জোন, ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০টি র‌্যান্ডম এলাকার মোট ৩৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবির ল্যাবে ওয়াসার খরচে পানি পরীক্ষা করে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আর প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার টাকা খরচ হিসাবে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসাকে দিতে আদেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ওয়াসার কাছ থেকে এ টাকা আদায় করে দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান হাইকোর্টের নির্দেশে উপস্থিত হয়ে তার মতামত তুলে ধরলে আদালতে এই আদেশ দেন। আদালতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন তানভীর আহমেদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মোতাহের হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা ওয়াসার ৪টি সোর্স পয়েন্ট, ১০টি জোন, ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০টি র‌্যান্ডম এলাকার নমুনা সংগ্রহণ করে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, মূলত বেশি বাজেট সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্যে দূষিত পানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে। কেন এটা সাপ্লাই হচ্ছে? এটা এক্সামিনের জন্য। এ এক্সামিনে এত লার্জ স্কেল কেন? স্যাম্পল কিভাবে নেয়া হবে। মূলত পরীক্ষায় খরচ কিভাবে কমানো যায়। সে বিষয়ে জানতে আপনাকে আসতে বলেছি। এ সময় ড. সাবিতা বলেন, পানি দূষিত এমন ঢালাও অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিগত দিনগুলোতে অর্থাৎ ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার সংযোগ ছিলো ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৪টি। যার বর্তমান সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৭টি। সুপেয় পানিতে কোনো রকম রং, গন্ধ বা অস্বচ্ছতা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপেয় পানি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ সকল লক্ষণাবলী থাকলে অভিযোগ কেন্দ্রে আনা পানির নমুনা চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, যেসব পানিতে ময়লা দেখা যাচ্ছে বা ঘোলা সেটাতো পরীক্ষার দরকার নেই। সেটা রিজেক্টেড। যেটা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন পরিষ্কার পানি পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি আমরা। যা পান করলে রোগ ছড়াবার তথ্য মেলে। আমাদের মনে রাখতে হবে অভিযোগ আছে এমন এলাকার পানি আমাদের সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করতে হয় দূষণের প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য। ড. সাবিতা রিজওয়ানা বলেন, ওয়াসা যে রিপোর্ট দিয়েছে ৫৯ এলাকা নিয়ে সেটাতো কয়েক মাস আগে। ওয়াসা পানির উৎস হলো ভূমিস্থ, ভূগর্ভস্থ, শীতলক্ষা বা বুড়িগঙ্গা। এসব উৎসের পানি সিজন টু সিজনে তারতম্য থাকতে পারে। ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৪৩টি আউটলেট আছে ধরে আমরা ইতিমধ্যে জানিয়েছি ৯৯ ভাগ আস্থা অর্জন করতে হলে ১৫ হাজার ৮৫৮ আউটলেট পরীক্ষার প্রয়োজন। অন্তত ৯৫ ভাগ আস্থা অর্জনে এক হাজার ৬৫ আউটলেট পরীক্ষা করা আবশ্যক। এ সময় আদালত বলেন, টেস্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাবে না। জানার জন্য এত টকা খরচের দরকার নেই। উদ্দেশ্য পানি দূষিত আছে কিনা? জবাবে সাবিতা রিজওয়ানা বলেন, চারটি সোর্সে পানি আসে। তখন আদালত বলেন, চারটি সোর্স পিওর হলে, বিতরণের ১০টি জোনে, পর্যায়ক্রমে ১০টি র‌্যান্ডম এবং ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রতি স্যাম্পলে কত টাকা লাগবে? এ সময় সাবিতা বলেন, প্রতি স্যাম্পলে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। সে ক্ষেত্রে মোট ১লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে। এরপর আদালত আদেশ দেন। আদেশের পরে সাবিতা রিজওয়ানা বলেন, পানির প্রক্রিয়া হচ্ছে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আজকে যে পানি সুপেয় ২ দিন পরে কোনো রকম জটিলতার কারণে সে পানি সুপেয় নাও হতে পারে। সে কারণে এককালীন পরীক্ষা করে পানির বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। পানি সুপেয় না হলে যেটা করণীর সেটার ওপর জোর দিতে হবে। এর আগে গত ১৬ই মে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার লিংকে গত তিন মাসে ময়লা পানির অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে ১০টি জোনের ৫৯ এলাকায় ময়লা পানির প্রবণতা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Khandakar
২২ মে ২০১৯, বুধবার, ১০:০৪

ঢাকা সহ বাংলাদেশের পানির লাইন অত্যন্ত পুরাতন হয়ে গেছে। পাকিস্তান আমলে GI পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তখন প্লাস্টিকের পাইপ আবিষ্কৃত হয় নাই। WASA - র উচিত হবে পুরোনো GI পাইপ বাদ দিয়ে নতুন করে প্লাস্টিকের পাইপ স্থাপন করে পানি সরবরাহের মেগা প্লানের ব্যবস্থা করা। তার আগে বাংলাদেশের সব ঘর বাড়িতে ছাদের উপর জলাধার নির্মাণ করা যেখানে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রান্না বান্না, গোসল, কাপড় চোপড় ধোয়া এমনকি খাবার পানির অন্যতম সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা যা মালয়েশিয়াতে করছে। এছাড়া সরকারের উচিত হবে সমুদ্রের পানি desalination করে পানি বিশুদ্ধ ও পরিশোধন করে তা সরবরাহ করা। এই পদ্বতিতে পানি পরিশোধন করা হয় আমেরিকার ফ্লোরিডার মায়ামিতে, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, আবু ধাবী সহ উপসাগরীয় সব দেশে। দেশের যখন উন্নয়ন শুরু হয়েছে তখন বড় বড় চিন্তা মাথায় আনা দরকার এবং তা সফল ভাবে কার্যে পরিণত করা।

অন্যান্য খবর