× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
রূপপুরে বালিশকাণ্ড

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় দুদক

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ মে ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৭

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়ে নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো পদক্ষেপ নেবে না সংস্থাটি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কথা হলো দুর্নীতি হয়েছে বা হয়নি। গণমাধ্যমের যে তথ্য সেখানে আমি দেখেছি। বালিশ, কেটলি এসকল বিষয়। দেখেন- দুর্নীতি দমন কমিশনের কিছু প্রসিডিউর আছে। একটা রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তো জাম্প দিতে পারি না। সেটা দেখতে হয়, বুঝতে হয়, চারদিক দেখতে হয়। আমরা ইতিমধ্যে কথা বলেছি, জেনেছি যে অলরেডি দুইটি কমিটি কাজ করছে। পত্রিকায় যে নিউজ সেটিও আমাদের কাছে এসেছে। এসব দেখে আমি একটা অর্ডার করেছি। সেই অর্ডারটি হলো- সেই তদন্তে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। তিনি বলেন, সবাই যদি একই জিনিস নিয়ে কাজ করতে থাকি তাহলে জিনিসটা ভালো দেখায় না। তারা কী রিপোর্ট দেয়, সেই রিপোর্ট দেখে তখন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মন্ত্রণালয়ের কনক্লুশন কী হয়, কারণ এটা সত্য নাও হতে পারে। সব রিপোর্ট যে সত্য তাও তো না।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের কতগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হঠাৎ করে আপনি জাম্প করবেন, সেখানে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এটা জাতীয় বিষয়, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু এটার বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ। সো জাস্ট ওয়েট। টেলিভিশনে দেখলাম একজন মন্ত্রী বলছেন যে, বেতন-ভাতা এগুলো সঠিক নয়। বালিশের ক্ষেত্রে এরকম একটা পরিস্থিতি তো হতেও পারে। গত ১৯শে মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কেনাকাটায় অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার পেমেন্ট বন্ধ রাখা হবে। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও সিএমআই’র সিনিয়র গবেষক ইঞ্জ এ্যামানসেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেসরকারি খাতের দুর্নীতির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ ( টিআইবি) এর ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় ইকবাল মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে টিআইবি ভালো কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে। তিনি বলেন, টিআইবি’র সঙ্গে দুদকের সম্পর্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে কমিশনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান । দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টিআইবি বিশেষ করে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় যে সকল মেগা কর্মসূচি রয়েছে এগুলোর প্রান্তিক পর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর গবেষণা করতে পারে। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি-অনিয়ম সম্পর্কে সরকারের নীতি-নির্ধারকগণ যেমন সচেতন হবেন, তেমনি তৃণমূল পর্যায়েও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়বে। তিনি বলেন, একইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও টিআইবি গবেষণা করলে এক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ যেমন চিহ্নিত করতে সহজ হবে, তেমনি সমাধানের গবেষণালব্ধ সুপারিশও পাওয়া যেতে পারে। সার্বিকভাবে এক্ষেত্রে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে টিআইবি’র। টিআইবিকে নির্মোহ থেকে এসব গবেষণা সম্পন্ন করতে হবে। বেসরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এক্ষেত্রেও দুর্নীতি রয়েছে। তবে সরাসরি এসব দুর্নীতি দুদকের আওতায় নেই। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির ঘটনা যখন ঘটে তখন দুদকের হস্তক্ষেপ করার আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দুদক এ দায়িত্ব পালনও করছে। বেসরকারি খাত টিআইবি’র ভূমিকা কেমন হবে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান লেন, বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য অনেক আইন রয়েছে, তবে এসব আইনের প্রয়োগে সমস্যা রয়েছে। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট কেন হচ্ছে না ? এর মূলে রয়েছে এসব আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দুর্নীতি। এক্ষেত্রে টিআইবি এবং সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীিিত-অনিয়মের কারণ, ধরন, ব্যপকতা শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়ন করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সক্ষমতায় কিছুটা ঘাটতি হয়তো রয়েছে, তা অতিক্রমের জন্য কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে, এই বার্তা দিতে কমিশন সফল হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দুর্নীতির অভিযোগে অনেক প্রভাবশালীদের আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ফিদহার
২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, ১২:৫৮

দুরনীতি কমিশনের সেই ক্ষমতা নাই , যে সরকারি করর্মচারীদের বিরোদে দুরনীতি প্রমান করবে , আজ সব জাগায় দুরনীতি হয় বিচার তো হয় শুদু খালেদা জিয়ার

অন্যান্য খবর