× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার

বাংলাদেশে আইএসের নেটওয়ার্কে ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করছে ভারত

বিশ্বজমিন

দিপাঞ্জন রয় চৌধুুরী | ২২ মে ২০১৯, বুধবার, ১১:০২

শুধু শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের নেটওয়ার্কের বিষয়েই ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ভারত এমন নয়। একই সঙ্গে নজর রাখছে বাংলাদেশের দিকেও। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশটিতে আইএসে সদস্য সংগ্রহ করার মূল এক হোতাকে গ্রেপ্তারের পর এমন দৃষ্টি দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে আইএসের পক্ষে সদস্য সংগ্রহ করতেন এবং ইরাক, সিরিয়া সফরে উৎসাহিত করতেন বাংলাদেশী একজন নাগরিক সাইফুল্লাহ ওজাকি। আইএসের পতনের পর ইরাকের সুলাইমানিয়াতে এক জেলে তাকে সনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ের সঙ্গে জানাশোনা একজন ব্যক্তি এ তথ্য দিয়েছেন ইকোনমিক টাইমসকে। সিরিয়ার বাঘোজে আত্মগোপন করে থাকা আইসিস বা আইএসের সর্বশেষ ঘাঁটির পতন হওয়ার পর ওজাকি সহ বাংলাদেশী ৯ জন নাগরিক হয়তো আত্মসমর্পণ করেছেন অথবা তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ইরাক-সিরিয়া অঞ্চলে আইএসের বিরুদ্ধে অপারেশনে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো হত্যা করেছে ওজাকির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে।


বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এমন কয়েকজনের মধ্যে একজন বলেছেন, যেসব সদস্যকে ওজাকি আইএসে ভিড়িয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন অভিজাত কলেজের। ইকোনমিক টাইমস জানতে পেরেছে, আইএসের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে খুব বেশি ফেসবুক ব্যবহার করতেন ওজাকি। তিনি ‘এক্স-ক্যাডেট ইসলামিক লার্নিং ফোরাম’ নামে একটি একাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এর মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহে বিভিন্ন ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতেন। বাংলাদেশে ওই অভিজাত কলেজটির ১২টি শাখা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় আইএসের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের বিষয়ে ও নেটওয়ার্কের দিকে ঘনিষ্ঠ নজরদারি করে যাচ্ছে ভারত। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থিদের সেলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার মতো না হয়ে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সিগুলো ঘনিষ্ঠভাবে সহাযোগিতা ও কাজ করে যাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সিগুলোর সঙ্গে।

ঢাকা থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো ইকোনমিক টাইমসকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে সন্ত্রাসের বিষয়ে রয়েছে শূণ্য সহনশীলতা। এ সরকার আইসিস মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থিদের গুপ্ত আস্তানার বিষয়ে অব্যাহতভাবে নজরদারি করে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর, কট্টরপন্থি বা উগ্রপন্থিদের দমনপীড়নে নিরাপত্তা বিষয়ক ‘অ্যাপারেটাস’কে আরো শক্তিশালী করেছে হাসিনার সরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, বৃটেন থেকে পালিয়ে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়া ‘আইএস বধু’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম যদি বাংলাদেশে ফেরেন তাহলে সন্ত্রাসকে সমর্থন করার কারণে তার ফাঁসি হবে। ১৯ বছর বয়সী ওই যুবতী লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে যোগ দেন আইএসে। বর্তমানে তিনি সিরিয়ার আল হোল মরুভূমিতে শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসের বিষয়ে রয়েছে শূন্য সহনশীলতা। তাই তাকে (শামীমা বেগম) কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।
ওজাকি বাংলাদেশে একটি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন বিদেশে।
(ভারতের অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমস থেকে অনুবাদ)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর