× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার

রংপুরে দুর্ঘটনা রোধে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৪০

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে প্রায় ১৫ জনের। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর সাধারণ মানুষের অসচেতনার ফলে রংপুর বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ঠেকানো যাচ্ছে না। সড়কে সুষ্ঠু ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা করাসহ সাধারণ মানুষের সচেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে পুলিশ বাহিনী। ডিআইজি রংপুর রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের রংপুর রেঞ্জে বিভাগের ৮ জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি মাসে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ জন। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হচ্ছে শতাধিক মানুষ। অদক্ষ চালকের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালনা, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালনা এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। পুলিশ বিভাগ ট্রাফিক আইন প্রয়োগসহ সচেতনতা তৈরিতে কাজ করলেও সুষ্ঠু ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।
একই মহাসড়কে চলছে ভারি-হালকা যানবাহনসহ মোটরসাইকেল। সড়কের বেশির ভাগ অংশে রোড ডিভাইডার না থাকায় যানবাহনগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও সেগুলো চলাচলে বিকল্প কোনো সড়ক তৈরি না হওয়ায় একই সড়কে বাস, ট্রাক, কার, মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, অটোরিকশা চলাচল করছে। দ্রুতগতির যান চলাচলের পাশাপাশি ধীরগতি যানচলাচলের ক্ষেত্রে হরহামেশাই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ শ্রমিক ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করায় ঈদে তারা ঘরমুখী হয়। এতে করে চাপ বেড়ে যায় সড়ক-মহাসড়কে। সড়কের বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, হেল্পার দিয়ে গাড়ি চালনা ও যাত্রীদের দ্রুত যাওয়ার প্রবণতার কারণে বাড়ে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া বাড়তি রোজগারের আশায় কাজ করতে গিয়ে গাড়ি চালকের তন্দ্রাচ্ছন্নতা কেড়ে নেয় মানুষের জীবন। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৃন্ময় শাহজাহান, তন্ময় আহমেদসহ অন্য শিক্ষার্থীরা বলেন, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল করে। এতে সড়কে মারাত্মক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেক চালক রয়েছে যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সই নেই। অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছেই। এদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সবাই যদি বুঝতো স্বজন হারানোর বেদনা কত কষ্টের, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতো না।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, বিভাগের ৮ জেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। আমরা ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চওড়া সড়ক, ওই সড়ক দিয়ে কি ধরনের কতসংখ্যক যান চলাচল করবে, সেটি পথচারী চলাচলের উপযোগী কি না ইত্যাদি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুষ্ঠু ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ যান চলাচল উপযোগী সড়ক তৈরি করার উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ ইতিমধ্যে “নো হেলমেট, নো পেট্রোল” কর্মসূচি বিভাগের ৮ জেলায় বাস্তবায়ন করছে। যারা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালায় তাদের কাছে করা জরিমানার টাকা দিয়ে হেলমেট কিনে দেয়া হচ্ছে। এতে করে বেশির ভাগ জেলায় শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ মানুষ হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণ, সভা-সেমিনার, র‌্যালি করছি। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দ্বারা গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচল করলে মামলা দেয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ৭ হাজারের মতো মামলা হচ্ছে রেঞ্জে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভাগ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে দিতে। আর সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করতে তৎপর রয়েছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর