× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

আজই ঠিক হবে কে হবেন ভারতের ভাগ্যবিধাতা

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৯

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভোট উৎসব শুরু হয়েছিল ১১ এপ্রিল। পর পর সাত দফায় হয়েছে নির্বাচন। আর আজ গণনা। ৪২ দিনের এই ভোট উৎসবের শেষে আজই নির্ধারিত হবে আগামী ৫ বছরের জন্য কে হবেন ভারতের ভাগ্যবিধাতা। ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী নাকি রাহুল গান্ধী ? এই দু’জনকে বাদ দিয়ে অন্য কারও কি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজ বিকেলের মধ্যেই। এবার লোকসভার ৫৪৩ টি আসনের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে ৫৪২টি আসনে। তামিলনাড়–র ভোলোরে প্রচুর অবৈধ অর্থ উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সেই কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। বুথ ফেরত জরিপে যদিও মোদীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)কে সংখ্যাগরিষ্ঠতার তকমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিরোধীরা মানতেই চাননি জরিপের ফল।
তাদের মতে, সবই বানানো জরিপ। ফলে তারা অপেক্ষা করছেন ফল গণনার জন্য। ইতিমধ্যেই বিরোধী ২২টি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে ইভিএমে ভোট গণনার আগে ভিভিপ্যাটের ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন বুধবার জানিয়ে দিয়েছে, বিরোধীদের দাবি মানা সম্ভব নয়।  আগে ইভিএমের ভোট গণনার পরই ভিভিপ্যাটের ভোট গণনা হবে। লোকসভার অর্ন্তগত প্রতিটি বিধানসভায় ৫টি বুথের ভিভিপ্যাট লটারির মাধ্যমে ঠিক করে গণনা করে ইভিএমের সঙ্গে মেলানো হবে। এদিকে বিরোধীরা স্ট্রং রুমে রাখা ইভিএম বদলের সম্ভাবনার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় স্ট্রং রুমে রাখা রয়েছে ইভিএমগুলি। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে কমিশনের আশ্বাস সত্ত্বেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধী দলের  নেতারা বুধবার থেকেই দলীয় কর্মীদের স্ট্রং রুম পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইভিএম নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা। আর বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ ইভিএমের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, মানুষ যদি মোদীর পক্ষে রায় দেন, তবে বিরোধীদের উচিত সম্মানের সঙ্গে পরাজয়কে মেনে নেওয়া। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ও  ইভিএম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে,  কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় দেশজুড়ে ভোট গণনার কাজ চলবে। বেলা সাড়ে নটার পরই ফলাফলের ট্রেন্ড বোঝা যাবে বলে জানা গেছে।
ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচন হয়েছে মোদীকে সামনে রেখে। বিজেপি মোদীকে তুলে ধরে ক্ষমতায় ফিরতে চেয়েছে। অন্যদিকে মোদী হঠানোর লক্ষ্যে বিরোধীরা ভোটে লড়াই করেছে। আর তাই জাতীয় রাজনৈতিক ও আর্থিক ইস্যুগুলি এবারের নির্বাচনে বিশেষ প্রাধান্য পায় নি। বিজেপিও সাফল্যের চেয়ে দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে জনতার রায় চেয়েছে। বিরোধীরা চেয়েছে মোদীর সার্বিক  ব্যর্থতার ভিত্তিতে জনতার রায় পেতে। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই বা জনকল্যাণ কর্মসূচিগুলি ইস্তেহারের মধ্যেই আটকে থেকেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দেশজুড়ে রেকর্ড প্রচারে অংশ নিয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি থেকে বেশি আসন পাবার লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে রিসোর্স ব্যবহার করেছিল। মোদী-শাহ জুটি পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ১৯টি জনসভায় অংশ নিয়ে রেকর্ড করেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই গোটা পশ্চিমবঙ্গ চষে বেড়িয়েছেন। একশর বেশি সভা করেছেন তিনি।  তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে মানুষের চোখ এখন টিভির পর্দায় সেঁটে রয়েছে। সকলের মধ্যে বুক ধুকপুকানি বেড়ে চলেছে। কার সিদ্ধান্ত সঠিক তার অন্তর্নিরীক্ষাও করছেন সকলে।
বিজেপি নেতারা অবশ্য সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবারই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এনডিএর শরিকদের নিয়ে অভিজাত হোটেলে নৈশভোজে বসেছিলেন। সেখানে মোদীর সাফল্য ও শরিকদের সাফল্য যুগপৎ আলোচিত হয়েছে। মোদীও গত মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগামী একশ দিনের কার্যসুচি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি নেতারা চাইছেন, শুভস্য শিঘ্রম। ফল বেরোনোর পর দেরী না করে রবিবারের মধ্যেই সরকার গঠন করা হোক। এজন্য মোদী প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য ১৬তম লোকসভার মেয়াদ শেষ হবে ৪ জুন। এর মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করলে চলবে।
বিরোধী নেতারা এখনও আশায় রয়েছেন, এনডিএ প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতার কম পেলেই নেতারা ছুটবেন প্রেসিডেন্টের কাছে। আর তার আগেই যে সব আঞ্চলিক দল কোনও জোটের সঙ্গে এখনও নেই, সে সব দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন শারদ পাওয়ার, চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো নেতারা। বুধবারই শারদ পাওয়ারা কথা বলেছেন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির নেতা চন্দ্রশেখার রাও, বিজু জনতা দলের নবীন পট্টনায়েক ও ওয়াই এস আর কংগ্রেসের জগমোহন রেড্ডির সঙ্গে। এরা যাতে এনডিএর দিকে ঝুঁকে না পড়ে সেজন্যই আগাম পদক্ষেপ করছে বিরোধীরা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর