× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৭ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার , ১৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

জাবিতে মেগাপ্রকল্পের দরপত্র আহ্বানে অনিয়মের অভিযোগ

দেশ বিদেশ

জাবি প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার

 প্রায় ১৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হতে যাওয়া ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন’ প্রথম ধাপে ছয়টি হলের দরপত্র আহ্বানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি হলের (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) প্রকল্পে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। ১লা মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রথম ১৫ দিন ব্যাংকে কোন সিডিউল পাওয়া যায়নি। এছাড়া দরপত্র সিডিউল ক্রয় করার আগে প্রকল্প পরিচালকের অনুমতির শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা আইনবহির্ভূত। এছাড়া একটি মাত্র স্থান থেকে দরপত্র বিক্রি ও পাশাপাশি দুটি কক্ষে দরপত্র গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোন ব্যাংক/অফিস থেকে দরপত্র সিডিউল বিক্রি বা দরপত্র গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পাশাপাশি সিডিউল ক্রয় করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তাছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬টি লটের মধ্যে একটি লটের দরপত্রে অংশ নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বরও চাওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে থাকায় অভিযোগের ব্যাপারে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে ভিসির ঘনিষ্ঠ দু’টি সূত্র অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, হাতে সময় কম। ৩ মাসের কাজ একমাসে করতে হচ্ছে তাই সবকিছু নিয়মমতো করা যায়নি। তবে এটা অসততা নয়। অভিযোগের ব্যাপারে প্রকল্প ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, কাজের ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিক সময়ে ব্যাংকে সিডিউল পাঠানো যায়নি। এছাড়া সূত্র বলছে, জাহাঙ্গীরনগরে অতীতের কোন প্রকল্পের দরপত্রের সিডিউলই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কেনার সুযোগ রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালকের অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে আইন ভঙ্গ হয়নি। আর মেইল ও ফ্যাক্স নাম্বার দিতে পারলে ফোন নাম্বার কেন দিতে পারবে না। একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক দরপত্র কিনতে না দেয়ার ধারার এখতিয়ার প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আছে। আমরা কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হতে চাই না। আর শিগগিরই ই-টেন্ডারের প্রক্রিয়া শুরু করব। তখন এই ধরনের অভিযোগ তোলার কোন সুযোগ থাকবে না।’ ভিসি বিরোধী বলে পরিচিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দীন বলেন, ‘বিজ্ঞাপনে ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার চাওয়া তো ঠিক না। এসব প্রকল্পের জন্য ই-টেন্ডার সিস্টেম চালু করা উচিত। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য টাকা দিয়েছে কারো ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়। কোন ধরনের দুর্নীতির সুযোগ থাকলে তা বন্ধ করা উচিত। প্রো-ভিসি নুরুল আলম বলেন, যে কোন ধরনের দুর্নীতি ও অসঙ্গতি থাকলে অবশ্যই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখব। বর্তমানে উঠা অভিযোগগুলো আমি ভিসি মহোদয়কে জানাবো। যদি অসঙ্গতি পাওয়া যায় অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে জানা যায়, এই অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছয়টি হল (৩টি ছাত্র হল, ৩টি ছাত্রীহল) নির্মাণ করা হবে। ১০০০ শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি হল হবে দশতলা বিশিষ্ট। প্রতিটি হলের জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। ছাত্রদের ৩টি হল নির্মাণ করা হবে রবীন্দ্রনাথ হল সংলগ্ন সুইজারল্যান্ড নামক পয়েন্টে আর মেয়েদের হল নির্মাণ করা হবে টারজান পযেন্ট এলাকায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা মূল্যায়ন কমিটি, প্রকল্প মূল্যায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দুইটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি করা হয়েছে। এদিকে গতকাল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ঘনিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র সিডিউল কিনেছে।




অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর