× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
গোপন মানবাধিকার লঙ্ঘন

যেভাবে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটে পাকিস্তানে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৩ জুন ২০১৯, সোমবার, ১২:১৯

পাকিস্তানে সিক্রেট বা গোপনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা, বিশেষত সেনাবাহিনী। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করে না। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে নিহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ। এখন তারা এ দাবির পক্ষে ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করছে। এমন অধিকারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নতুন একটি অধিকার বিষয়ক সংগঠন পশতুন তাহাফফুজ মুভমেন্টের (পিটিএম)। এ সংগঠনটি গত বছরই চালু হয়েছে। তারা উপজাতি এলাকাগুলোতে মানবাধিবার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রকাশ করে যাচ্ছে, যেখানে নির্যাতিত মানুষ আগে কথা বলতে ভয় পেতেন। অনলাইন বিবিসিতে দীর্ঘ এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক এম ইলিয়ান খান।


পিটিএমের শীর্ষ নেতা মানজুর পশতিন। তিনি বলেছেন, দুর্ভোগ ও অবমাননার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় ১৫ বছর। এ সময়ে আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করেছি, কিভাবে সরাসরি হামলা চালিয়ে এবং জঙ্গিদের সমর্থন দিয়ে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার নষ্ট করছে সেনাবাহিনী।

কিন্তু তার এ গ্রুপটি প্রচ- চাপে রয়েছে। তারা বলেছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন বিক্ষোভ করছিলেন, তখন তাদের ওপর ২৬ মে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সেনাবাহিনী। এতে তাদের ১৩ জন অধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, চেকপয়েন্টে হামলা চালানোর পর তারা অভিযানে গেছে এবং এতে কমপক্ষে তিনজন অধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে পিটিএম। বর্তমানে এ গ্রুপের দু’জন এমপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিএম।

বিবিসি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে এমন বেশকছিু ঘটনার উল্লেখ করেছে পিটিএম। এসব বিষয় পাকিস্তানি সেনা মুখপাত্রের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি। তিনি এসব অভিযোগকে উচ্চমাত্রায় বিচারিক বলে মত দেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পায় নি বিবিসি।

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আল কায়েদার হামলার পর নতুন একটি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে হামলা চালায়, তখন আল কায়েদার নেতা প্রয়াত ওসামা বিন লাদেনের ছত্রছায়ায় থাকা তালেবান বাহিনী আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন যে তিনটি দেশ তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তার অন্যতম হলো পাকিস্তান। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের একটি স্বার্থ ছিল। তারা চাইছিল আফগানিস্তানে ভারত যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তা রোধ করতে। কিন্তু কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল পাকিস্তান। ফলে তখনকার সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। এ থেকে যা দাঁড়িয়েছে তা হলো, তালেবানরা পাকিস্তানের আধা শায়ত্তশাসিত উপজাতি এলাকাগুলোতে আশ্রয় খুঁজে পায়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে।

কিন্তু ঘটনা অন্য। আফগানিস্তানের তালেবানরা সীমান্ত অতিক্রম করার সময় শুধু নিজেরাই আসে নি। বিভিন্ন রকম গ্রুপের বিভিন্ন রকম জঙ্গি উপজাতি এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে। এর মধ্যে এমন কিছু জঙ্গি ছিল, যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের খুব বিরোধী নয়। ওয়াজিরিস্তান থেকে হামলা ষড়যন্ত্র শুরু করে বৈশ্বিক উচ্চাভিলাষী জিহাদিরা। এ কারণে ওয়াশিংটন থেকে দাবি ওঠে। তারা ইসলামপন্থি জঙ্গিবাদ ভেঙেচুরে দেয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ‘মিলিটারি ইনকরপোরেশন: ইনসাইড পাকিস্তানস মিলিটারি ইকোনমি’ বইয়ের লেখক আয়েশা সিদ্দিকা বলেছেন, সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ফলে পাকিস্তান একদিকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে অন্যদিকে ভবিষ্যত দরকষাকষিতে অংশীদারদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা করে।

২০১৪ সালে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নতুন করে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। এতে জঙ্গি গ্রুপ ও তাদের নিরাপদ আস্তানায় চাপ বৃদ্ধি পায়।
(চলমান)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর