× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

কলকাতায় ঈদের বৃহত্তম নামাজে অংশ নিয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ

বিশ্বজমিন

কলকাতা প্রতিনিধি: | ৫ জুন ২০১৯, বুধবার, ৩:০৪

ভারত জুড়ে বুধবার পালিত হচ্ছে খুশির ঈদ। ঈদ পালিত হচ্ছে কলকাতা-সহ এ রাজ্যেও। ঈদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবারই কলকাতার আকাশে দেখা গিয়েছে শাওয়াল মাসের চাঁদ। তাই বুধবারই ঈদ পালিত হবে বলে রাতেই ঘোষণা করা হয়। সেই মত আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে খুশির ঈদের উৎসব। সকাল ৯ টায় রেড রোডে ঈদের বৃহত্তম জমায়েতে নামাজ পাঠ করান ইমাম কারি ফজলুর রহমান। তিনিই রেড রোডের নামাজ প্রতিবছর পরিচালনা করেন।
এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই নামাজে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। কলকাতায় নানা কাজে আসা বাংলাদেশিরাও এই দিনটিতে রেড রোডের নামাজে অংশ নিয়েছেন। এদিন অবশ্য সকালে বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টির মধ্যেই চলে নামাজ। রেড রোডে উপস্থিত হয়ে সব ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। জয় হোক মানবতার। জয় হিন্দ, জয় বাংলা, জয় ভারত। শুধু রেড রোডই নয়, কলকাতার প্রাচীন নাখোদা মসজিত, টিপু সুলতান মসজিদ সহ রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ ও ইদগাহে হাজার হাজার মানুষ ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন। মহিলারাও এদিন বহু জায়গাতে নামাজে অংশ নিয়েছেন। নামাজের শেষে সকলে সকলকে আলিঙ্গন করে প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে অবগাহন করেছেন। এরপর সারাদিন ধরে চলেছে পরষ্পর আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে বাড়িতে মিলনের আয়োজন। এদিন ঈদ উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সকালেই এক টুইট বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আসুন বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের এই ধরাকে বজায় রাখি। একতাই সম্প্রীতি, এটাই হোক আমাদের মন্ত্র। তবে এদিন রেডরোডের নামাজে প্রতিবারের মত এবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে নামাজ শেষে তার ভাষণে মমতা রাজনীতিকে টেনে আনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে মমতা আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, বাংলায় আপনারা ন্যায়বিচার পাবেন। অনেকেই অনেক কথা বলছে তাতে কান দেবেন না।এর আগে অবশ্য ভোট বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও সহ্য করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন অবশ্য সকলের নজর ছিল সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী সেদিকেই। নির্বাচনী ফলেই দেখা গিয়েছে মুসলিমরা ভরসা রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সেই বিষয়টির উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা বাংলাকে আশীর্বাদ করেছেন, সহযোগিতা করেছেন। আপনাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এদিনের জমায়েতে নাম না করেই বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেছেন, কখনও কখনও রোদের তেজ তীব্র হয়। কিন্তু পরে তা ফিকে হয়ে যায়। সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, অনেকেই অনেক কিছু বলবেন। কিন্তু গায়ে মাখবেন না। আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো। সমস্যা হলে একযোগে রুখবো। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই ঈদের জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী জাভেদ খান, বিধায়ক ইদ্রিস আলি প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর