× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
গার্ডিয়ানকে জেমি ডে

‘বাংলাদেশে ফুটবল ছাড়িয়ে যাবে ক্রিকেটকে’

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ৮ জুন ২০১৯, শনিবার, ৯:৪২

চলছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের মানুষ তো এমনিতেই ক্রিকেট নিয়ে পাগল, তার ওপর বিশ্বকাপের সময়ে এই পাগলামির পারদটা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। এমন একটা সময়েই ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাই পর্বে লাওসকে ১-০ গোলে হারিয়েও খবরের শিরোনাম হতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল দল। এসব আক্ষেপ ও বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। তিনি বাংলাদেশে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের সম্ভাবনা বেশি দেখেন, ‘বাংলাদেশকে সবাই ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবেই মনে করে। কিন্তু আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমার মনে হয় বাংলাদেশে ফুটবলের সম্ভাবনা ক্রিকেটের চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের লোক ফুটবল ভালোবাসে। সেটা আমি প্রমাণ পেয়েছি। ঢাকার বাইরে প্রচুর দর্শক আসে ফুটবল দেখতে। কিন্তু কখনোই ফুটবলে তারা সফল হয়নি। যে কারণে ফুটবলের পেছনে সেখানে অত বিনিয়োগ হয় না। আমি দু’টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলাম মাঠে, সেখানে বিশ থেকে তিরিশ হাজার দর্শক ছিল। ফুটবল আরও জনপ্রিয় হলে এর চেয়ে বেশি দর্শক হবে সেখানে। আমি চাই, বাংলাদেশে ফুটবল ছাড়িয়ে যাক ক্রিকেটকে।’
ক্রিকেটের সাফল্যের কারণ যে পৃষ্ঠপোষকতা, এটাও মনে করেন জেমি, ‘আপনি যদি ম্যাচ জেতেন, তাহলে আরও বেশি মানুষ খেলা দেখার জন্য আগ্রহী হবে। খেলা দেখতে মাঠে আসবে। আমার মতে বাংলাদেশে ফুটবল ক্রিকেটের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। তবে এই মুহূর্তে দেশে ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটের অবস্থা ভালো, কেননা তারা ফুটবলের চেয়ে বেশি পৃষ্ঠপোষক পায়, আর্থিক সহায়তাও অনেক বেশি পায়।’ বাংলাদেশের চাকরিটা উপভোগ করছেন জানিয়ে জেমি ডে বলেন, এখানে প্রচণ্ড গরম আর ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হলেও চাকরিটা উপভোগই করেন তিনি, ‘আমরা রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য একদম সকালে অনুশীলন করি। সকাল ছয়টা থেকে সাতটা প্র্যাকটিস করাই। আর ওদিকে বিকেল পাঁচটার পর। বাংলাদেশ অনেক জনবসতিপূর্ণ একটা জায়গা। ঢাকা শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো নয়, ফলে একবার বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সব জায়গায় পানি জমে যায়। প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যাম। দুই মাইল যেতেই অনেক সময় লেগে যায়। ইংল্যান্ডের চেয়ে অবস্থা অনেক ভিন্ন সেখানে। কিন্তু ফুটবলের কল্যাণে বাংলাদেশে অনেকেই আমাকে চেনে। ইংল্যান্ডে তো আমাকে কেউ চেনে না। অনেকেই বাংলাদেশে সেলফি তুলতে চায়। আমার এতে খুব হাসি পেলেও পুরো বিষয়টা আমি উপভোগ করি।’ বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করছেন অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। মুখোমুখি হতে হয় অনেক বৈরী পরিস্থিতিরও। তবে জেমির প্রত্যয় এ অবস্থা তিনি বদলে ছাড়বেনই, ‘আমরা এমন হোটেলেও থেকেছি, যেখানে খেলোয়াড়দের থাকার জন্য পর্যাপ্ত শোয়ার ঘর ছিল না। অনুশীলন কিট পাইনি কখনো কখনো, এমনও হয়েছে যে, মাঠে অনুশীলন করতে গেছি সেখানকার ঘাস কাটা ছিল না, তাই আমরা অনুশীলন করতে পারিনি সেদিন। এমনও হয়েছে, আমরা দল বেঁধে বাসে চেপেছি কিন্তু পরে রাস্তার মাঝে নেমে যেতে হয়েছে, কেননা ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। বিমানবন্দরে নেমে ঘরে ফেরার জন্য কিছু পাইনি, উবার ডেকে যেতে হয়েছে। আমি এসব কিছুর জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দোষ দেবো না, কেননা তাদের বলা হয়েছিল সবকিছু ঠিকঠাকমতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা ছিল না। মাঝে-মধ্যে তাই খুব বিরক্ত লাগে, কিন্তু এখন যখন ব্যাপারগুলো মনে করি তখন বেশ হাসি পায় আমার!’ বাংলাদেশের তরুণ এই দল নিয়ে সামনের দিকে অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর