× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার

রিমান্ডে রিপন নাথের আরেক কথা!

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:২০

পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে রোববার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে অমিত মুহুরি হত্যায় অভিযুক্ত রিপন নাথ বলেন-পায়ের কাছে শুতে বাধ্য করায় অমিত মুহুরিকে ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি মাথায় আঘাত করে খুন করেছেন। তার এ বক্তব্য সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, যদি তাই হয়, তাহলে ইট কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে রিপন নাথ কোনো উত্তর দেয়নি। আবার এর আগে রিপন নাথ বলেছেন- রাগের মাথায় অমিত মুহুরিকে ইট দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে খুন করেছেন তিনি। পরিদর্শক আজিজ আহমেদ বলেন, অমিত মুহুরি হত্যায় নগরীর কোতায়োলি থানায় কারাগারের জেলার নাছির আহমেদের দায়ের করা মামলায় গত সোমবার রিপন নাথকে শ্যোন এরেস্ট এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ঈদের ছুটি শেষে শনিবার রাতে তাকে রিমান্ডে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এখনও পর্যন্ত সে একাই খুন করেছে বলে জানিয়েছে। সে বলছে, ৬ নম্বর কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই অমিত তাকে নানাভাবে টিটকারি মারছিল।
রাতে পাশাপাশি কিছুতেই শুতে দিচ্ছিল না। বার বার বলছিল, থাকতে হলে তাকে অমিতের পায়ের কাছেই থাকতে হবে। একপর্যায়ে সে আর মাথা ঠিক রাখতে পারেনি। তাই ইট দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে খুন করা হয়। পরে কারারক্ষীরা তাকে ধরে বেঁধে সরিয়ে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সিসি ক্যামেরার চিত্র ও কারাগারে একসঙ্গে থাকা আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আসামি বেলালের দেয়া তথ্যমতে রিপন নাথের বলা কথার কোনো মিল নেই। ফলে আমরা মনে করছি-রিপন নাথের শেষ কথাটাও সাজানো ও মিথ্যে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। এখনো তো সময় আছে, চার্জশিট দেয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সব কারণ খুঁজে দেখবো।
তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা হত্যাকাণ্ডের দিন এবং পরদিনের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। ফুটেজে ওইদিন বিকালে হাতে দুটি ইট নিয়ে অমিত মুহুরির কক্ষের দিকে যেতে দেখা গেছে রিপন নাথকে। এখন প্রশ্ন, রিপন নাথ কারাগারের ভেতরে ইট কোথা থেকে পেল। এছাড়া দু’দিনের সিসিটিভি ফুটেজে ১০ মিনিট ও ১৪ মিনিটের ভিডিও মিসিং। এর কারণটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২৯শে মে রাতে চট্টগ্রামের কারা অভ্যন্তরে রিপন নাথের হাতে খুন হয় হত্যা মামলার আসামি অমিত মুহুরি। এরপর থেকে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগ করে আসছে পরিবার। অমিত, দেলোয়ার ও বেলাল ছিল ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে এই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছিল রিপনকে। দেলোয়ারকে পাঠানো হয়েছিল অন্য কক্ষে। নিয়ম অনুযায়ী সেল পরিবর্তন করলে জানাতে হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সে নিয়মও মানা হয়নি। কারাগার পরিদর্শনকালে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানান পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ।
ঘটনার পরপরই সিএমপি দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান কারা অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অমিত ও রিপনের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা বন্দি বেলাল তাঁকে জানিয়েছেন তারা তিন জনই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ জেগে উঠে দেখে অমিতকে কম্বল চাপা দিয়ে ইট দিয়ে আঘাত করছে রিপন। তদন্ত টীম সেই রক্ত মাখা কম্বলটিও পান নি। একই সঙ্গে পান নি রক্ত মাখা ইটের টুকরোও। তদন্ত কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ বলেন, রিপন এ পর্যন্ত যা তথ্য দিয়েছে, খুনের কারণ যে সেটাই এমনটি বলতে পারছি না। এক্ষেত্রে আমরা ঘটনার দিন ২৯শে মে এবং পরদিন ৩০শে মে’র সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। প্রথমদিনের ভিডিও ফুটেজে ঠিক কী ঘটেছিল তা পাওয়া যেত। আর দ্বিতীয় দিনের ফুটেজ চেয়েছিলাম, ঘটনার পর ঐ কক্ষ থেকে কোনো আলামত সরানো হয়েছিল কিনা তা বুঝতে। কিন্তু সরবরাহকৃত ভিডিও ফুটেজের মধ্যে ২৯ তারিখের ফুটেজে বিকাল ৪টা ৫৭ মিনিট থেকে ৫টা ৭ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ নেই। আবার পরদিন অর্থাৎ ৩০শে মে সকাল ১১টা ৯ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত ১৪ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ নেই। ফুটেজের ধারাবাহিকতা থাকলে তদন্তে সুবিধে হতো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর