× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার

দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে: রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:২৩

দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, দেশ বিদেশের মানুষ জানে বাংলাদেশে চলছে গণতন্ত্রের এক অন্ধকারময় পর্ব। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন নিরুদ্দেশ। মানুষের বাক-স্বাধীনতা নেই। দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে। শুধু মে মাসের প্রথম ৮ দিনেই ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫জন মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন।
হত্যা, ধর্ষণের গুরুতর অপরাধের ঘটনাগুলো সমাজে, গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়ে না। বরং ক্ষমতাসীনদের আশকারাতেই অপরাধীরা শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। তার একটি বড় প্রমাণ ফেনীর নুসরাত জাহানকে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে মারার সঙ্গে যারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে জড়িত তাদের একজন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। পরোয়ানা থাকার পরও মোয়াজ্জেম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অতএব মন্ত্রীরা চাকরি রক্ষার বিবৃতি দিলেও দেশের অবস্থা ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক। রিজভী বলেন, চরম মিথ্যাচার আওয়ামী লীগ ও সরকারে পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। আওয়ামী লীগে ব্যক্তির যোগ্যতা ও মেধার ইন্টিগ্রেটির কোন বালাই নেই। আওয়ামী লীগ নেতাদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণে যেটি পাওয়া যায় তা হলো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড, চরম মিথ্যাচার, অপরাধ করেও অনুশোচনাহীনতা, অগভীরতা, পরজীবীর মতো আচরণ, ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে অপারগতা। রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী একবার মন্ত্রীত্ব খুইয়ে এবারে মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন শুধুমাত্র অবান্তর, অবিরল, মিথ্যাচারের প্রতিভা প্রমাণ করে। বিএসএমএমইউ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই এলাকায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কথা। যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাকপক্ষিও প্রবেশ করতে পারে না। সেই বিএসএমএমইউতে বোমা সদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী এখন বিএনপির যোগসূত্র খুঁজছেন। এজন্যই বলেছি, আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম। তথ্যমন্ত্রীর তো ভুলে যাওয়ার কথা নয় শেরাটনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে সারাদেশে গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা কারা করেছিল। বিহঙ্গ গাড়িতে পেট্রোল হামলা কারা করেছিল যা পরবর্তীতে আওয়ামী নেতারাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ স্বীকারোক্তির কথাটা তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না কেন? রিজভী বলেন, নরসিংদী রোডের বিআরটিসি বাস আজিমপুরে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছিল কারা? এসব করেছিল যারা তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও রাষ্ট্রযন্ত্র। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নারায়ণগঞ্জে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবলীগ নেতারা কিভাবে আটক হয়েছিল? রাবিতে ছাত্রলীগ কীভাবে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছিল সেটা সবার জানা। সুতরাং পেট্রোল বোমা কালচার আওয়ামী লীগের আবিষ্কৃত কালচার। সেটা তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও দেশবাসী ঠিকই জানেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত বছর নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে গায়েবি মামলা, মৃতব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, পক্ষঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির নামে মামলা, পবিত্র হজ পালনরত ব্যক্তির নামে মামলায় প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ নিজেরা অপকর্ম করে অন্যের উপর দায় চাপায়। বিএসএমএমইউতে পেট্রোল বোমা সদৃশ্য বোতলও ক্ষমতাসীন মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এটাও দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার। সুতরাং জনগণের ওপর জবরদস্তি করে মিথ্যা কথার মায়াজাল বিস্তার করা যায় না। মিডনাইট নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতা হরণ, রক্তপাতের সংস্কৃতি চালু রেখে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে। রিজভী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল তার নির্বাচনী এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় শ্রীরামপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে। এ হামলায় তার সফরসঙ্গি পি জামান, বাচ্চুসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা ছাত্রলীগের এ সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মামুন আহমেদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর