× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার
ঢাকা-ওয়াশিংটন সংলাপ

মূল আলোচনা আজ

শেষের পাতা

মিজানুর রহমান | ১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:৫৭

ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে সপ্তম পার্টনারশিপ ডায়ালগের আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। আজ হবে মূল আলোচনা, প্লিনারি সেশন। এ সেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিভাগের নব নিযুক্ত আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেল। ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশে নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার সর্বোচ্চ ফোরাম পার্টনারশিপ ডায়ালগের এটিই প্রথম বৈঠক। সঙ্গত কারণেই আজকের বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার বিষয়ে ব্রিফ করবে ঢাকা।
একই সঙ্গে সরকারের পথচলায় যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত সহযোগিতাও চাওয়া হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষ করে রাজনীতি ও নির্বাচন প্রশ্নে মতভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশে বিনিয়াগে (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টেমেন্ট বা এফডিআইতে) মার্কিনীদের অবস্থান প্রথম স্থানে। যদিও গত বছর বড় ব্যবধানে চীনের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়েছে। তারপরও সার্বিক বিবেচনায় এখনও যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম, বলছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান ধরে রাখুক এবং এখানে মার্কিন কোম্পানীগুলো আরও বেশি বিনিয়োগ করুক আজকের বৈঠকে এ আহ্বানই জানাবে ঢাকা। এ-ও বলা হবে, সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে, তাতে কাছের এবং দূরের অনেক দেশ বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ইকোনমিক জোনে বিনিযোগ করুক। ওয়াশিংটন যেখানে চাইবে সেখানেই একটি অঞ্চল ছাড়তে প্রস্তুত ঢাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, পার্টনারশিপ ডায়ালগের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মোটা দাগে ৩টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু। কর্মকর্তাদের দাবি তৃতীয় ইস্যুতে আলোচনা কম হয়েছে, আজ শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে। ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনায় মূলত জোর পেয়েছে অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো। বৈঠকে অংশ নেয়া ওয়াশিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, এফডিআইতে বছরের পর বছর ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ২০১৮ সালে অনেক কমে গেছে। গত বছরে দেশটির বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ হয়েছে ১৭৪ মিলিয়ন ডলার।

সেখানে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে নেদারল্যান্ডস এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে বৃটেন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার যে সুবিধাদি দিচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে। আজকের বৈঠকেও এ নিয়ে কথা হবে। একই সঙ্গে ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের অনুরোধ থাকবে। উন্নয়ন সহযোগিতার আলোচনা প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে যে বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা পেয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৬ বিলিয়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মার্কিন দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডি ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে। গড়ে তাদের অনুদান বছর প্রতি ২০০ মিলিয়ন। রোহিঙ্গা সংকটে মার্কিনীদের অবদান প্রসঙ্গেও ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আলোচনাকারী ওই কর্মকর্তা বলেন, ’১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা দিয়েছে ৪৯৪ ডলার।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে গ্লোবাল এসিস্ট্যেন্স এসেছে তার প্রায় ৭৩ ভাগ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কেবল মানবিক সহায়তাই নয়, এ ইস্যুতে সর্বোতভাবে ঢাকাকে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সাপোর্ট দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এ পর্যন্ত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং সিনেটে ৩ দফা শুনানি হয়েছে। রাখাইনে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বার্মার ৫ জেনারেল এবং সেনাবাহিনীর দু’টি ইউনিটের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন এডমিনিস্ট্রেশন। হোয়াইট হাউজ থেকে শুরু করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, আইন প্রণেতা, সিভিল সোসাইটি এমনকি মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সরব রয়েছে। ঢাকার তরফে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়াও আরও কিভাবে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুন রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েও পার্টনারশিপ ডায়ালগে আলোচনা হবে জানিয়ে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, এটি ঢাকার প্রায়োরিট। এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে এপ্রিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে  আবদুল মোমেনের আলোচনা হয়েছিল। সেই সময় আইনি লড়াইয়ের পারামর্শ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

এদিকে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ঢাকা-ওয়াশিংটন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ইরান ও উত্তর কোরিয়া নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকের এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচিতে তৃতীয় কোন দেশকে অন্তর্ভূক্ত করে আলোচনার প্রস্তাব এবারই প্রথম। ঢাকা অবশ্য আলোচনার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। কর্মকর্তারা এ জন্য বাড়তি প্রস্তুতিও নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবরোধ আরোপ করেছে।

অন্যদিকে কোরিয়া উপদ্বীপ নিউক্লিয়ার বোমামুক্ত করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দর কষাকষি করছে। যদিও পিংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার অভিযোগে এরই মধ্যে তার দেশের এক কর্মকর্তাকে ফাসির দণ্ড দিয়েছে। সেগুনবাগিচা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু পরিস্থিতির ওপর ঢাকার সতর্ক পর্যবেক্ষণ যে রয়েছে সেটি কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা বলেন, কী আলোচনা হবে তা নির্ভর করে পরিস্থিতি এবং  প্রেক্ষাপটের ওপর। কিন্তু সাধারণভাবে আমাদের নীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এদিকে ৩ বছর আগে ঢাকায় নিজ বাসায় বন্ধুসহ খুন হওয়া জুলহাজ মান্নানের মামলার অগ্রগতিও জানতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে সম্প্রতি এ ঘটনার বিচার চেয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন ইউএসএআইডি প্রশাসক।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকায় সর্বশেষ (ষষ্ঠ) পার্টনারশিপ ডায়ালগ হয়েছিল। ২০১২ সালে সই হওয়া পার্টনারশিপ চুক্তির আওতায় নিয়মিতভাবে অলটারনেটিভ ভেন্যুতে (একবার ঢাকায়, অন্যবার ওয়াশিংটন) এ ডায়ালগ হয়ে আসছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর