× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

চ্যাম্পিয়নরা এমনই হয়

প্রথম পাতা

সাজেদুল হক | ১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:৫৯

আমি এমনভাবে পা ফেলি যেন মাটির বুকেও আঘাত না লাগে, আমার তো কারুকে দুঃখ দেবার কথা নয়।
সুনীলের কবিতার মতো এটা বিশ্বাস রাখুন, হিরোরা কখনো ইচ্ছে করে কাউকে দুঃখ দেন না। এক চ্যাম্পিয়নকে নিয়ে লিখতে বসে শুরুতেই দুঃখের কথা কেন এলো? এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু জমিন এবং জীবন সব সময় স্বপ্নের পথ ধরে হাঁটে না। কখনো কখনো নির্মম বাস্তবতা বিষণ্ন করে, বিপন্ন করে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ শেষে যেমন আমাদের অনেকেরই মন খারাপ। তবে জীবন এখানে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বিশ্বকাপও নয়।
এখনও সুযোগ রয়েছে। জীবন তাদের অনেকটাই আলাদা করেছে। তবুও কখনো কখনো তারা আমাদের মতোই। হাসি, কান্না ছুঁয়ে যায় ওদের জীবনকে। এশিয়া কাপের ফাইনালে সাকিব আর মুশফিকের সেই কান্নার কথা মনে আছে? ছবিটা দেখলে এখনও মন ভেঙে যায়।

শুধু খেলাধুলা কেন? জাতির জন্য, জীবনের জন্যও হিরোদের প্রয়োজন। সমবিত বাল টেন্ডুলকার সম্পর্কে যেটা লিখেছেন তা সম্ভবত দুনিয়ার সব হিরোদের বেলাতেই সত্য। হিরোরা অবশ্য কখনো কখনো আকাশের তারার মতো। ছাড়িয়ে যান দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণের সীমারেখা। দিয়াগো ম্যারাডোনার কথাই ধরুন না কেন? তাকে কান্নায় ভেঙে পরতে দেখে আমাদেরতো দুঃখ পাওয়ার কথা ছিল না। তবুও তার হাসিতে আমরা হেসেছি। তার কান্নায় আমরা কেঁদেছি। তার জন্য মিছিল বের হয়েছে বাংলাদেশের ছোট্ট গ্রামেও। ম্যারাডোনা কি তখন ফুটবলকেও ছাড়িয়ে যাননি। বলে রাখা ভালো, দিয়াগো তখনো বাংলাদেশের নামটিও ভালো করে জানতেন না।
ছেলেটার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সবে শুরু। ঢাকার এক প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক তার ইন্টারভিউ চাইলেন। সঙ্গে সঙ্গে সে রাজি।

কেবল বললেন, মিডিয়া ম্যানেজারের অনুমতি লাগবে। চমকে ওঠলেন ওই সাংবাদিক। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটে তখনো খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার দিতে এই অনুমতি ব্যাপারটি ভাবনাতেই আসেনি। সেই শুরু। সাকিব আল হাসানের চমকে দেয়া আর কখনো থামেনি। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সবসময়ই তিনি খেলে গেছেন। আমরা কখনো তার সমালোচনা করেছি। বিরক্ত হয়েছি। আবার মুহুর্তে তার ভক্ত বনে গেছি। কারণ মাঠে তিনি তার কাজ করে গেছেন। চ্যাম্পিয়নরা যেমনটা করে থাকেন আর কি!
সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় এরই মধ্যে তার নাম ওঠে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার যে তিনি সে নিয়েও বিতর্ক নেই। শুধু ক্রিকেটারওবা বলি কেন? সাকিব সম্ভবত, বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটও। সাকিব সেই নায়ক, যাকে আমরা খুঁজে ফিরেছি খেলার মাঠে, সিনেমার পর্দায়। যদিও মাঠের বাইরে তিনি বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কখনো দর্শকের গায়ে হাত তুলে, কখনওবা নিয়ম ভেঙে। নিষেধাজ্ঞার শাস্তিও তাকে ভোগ করতে হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগেও বিতর্কের খাতায় ফের নাম ওঠে তার। দলের ফটোসেশনে যোগ না দিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটান এ দফায়। তবে বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগের আগেই সাকিবকে দেখে চমকে ওঠেন অনেকে। শরীরের ওজন কমিয়েছেন অনেকটাই। একেবারে ঝরঝরে, তরতাজা। দীর্ঘদিন ধরে যে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন দেখেই বুঝা যায়। আর বিশ্বকাপ খেলতে নামার পরই ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়ে দেন, সাকিবকে দেখে তার মনে হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হতে চান সাকিব।

মন্ত্রমুগ্ধকর কথাটা তার সঙ্গে যায় না। ব্যাট আকেঁনা মায়ার ছবি। কিন্তু সাকিব আলাদা। অন্য সবার চেয়ে একেবারে আলাদা। বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের জমানাতেই অলরাউন্ডার হিসেবে সেরা ফর্মের সাকিবকে দেখা যায়। সাকিবের প্রতি তার পক্ষপাতের সমালোচনাও করেন কেউ কেউ। সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘সাকিব আল হাসান: আপন চোখে ভিন্ন চোখে’ বইয়ে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে জেমি সিডন্স কথা বলেছেন সাকিবকে নিয়ে। সিডন্স বলেন, আমার চোখে সাকিব শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা। আমি খুবই গর্বিত যে, এরকম একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। তার বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার পথে আমার কিছুটা হলেও অংশগ্রহণ আছে, এটা ভেবে আমি সবসময় গর্ব করি। সাকিবের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, অস্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস। এটা তার খেলাতে ফুটে ওঠে। বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে আমি তাকে গিফটেড মনে করি। এই মুহুর্তে বাকি যেসব স্পিনার খেলছে, তাদের যে কারও চেয়ে প্রকৃতি প্রদত্ত ব্যাপারটা ওর মধ্যে বেশি।

সঙ্গে খুবই প্রতিভাধর ও বেপরোয়া একজন ব্যাটসম্যান। সেরা বোলারদেরও পরোয়া করে না। সাকিব একটু উদ্ধত এমন অভিযোগের ব্যাপারে সিডন্স বলেন, সত্যিটা হলো, আপনি সহজে সাকিবকে বোকা বানাতে পারবেন না, এটাই এসব অভিযোগের কারণ। ও হলো একজন জাত নেতা। ও নিজের দেশকে সেরা বানাতে চায়। এখন যারা এই কাজে ওকে সহায়তা করবে না, ও তাদের শ্রদ্ধা করবে না; সহজ হিসাব। ওর আত্মবিশ্বাস আছে। ও নিজেরটা নিজে করে নিতে পারে। ওর এইসব আচরণকে ঔদ্ধত্য মনে হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, চ্যাম্পিয়নরা উদ্ধতই হয়।

বিশ্বকাপের কথায় ফিরে আসি। চ্যাম্পিয়নরা সবসময় বড় মঞ্চ ভালোবাসেন। রিচাডর্স, লারা, টেন্ডুলকার, ওয়াসিম, ওয়ার্ন সবার বেলাতেই এ কথা সত্য। সাকিব আল হাসানও নিজেকে তৈরি করেছেন বড় মঞ্চের খেলোয়াড় হিসেবেই। বিশ্বকাপ সবে শুরু। অলরাউন্ডার হিসেবে জীবনের অন্যতম সেরা ফর্মে রয়েছেন সাকিব। আমাদের প্রার্থনা পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই এমন ফর্মেই থাকুন সাকিব। শুধু সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার নয়, আরও বড় কিছু আমরা দেখতে চাই সাকিবের হাতে। এক চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারের জন্য এ চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়!

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
প্রিন্স
১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৫:৩২

সাকিব আল হাসান যত বড় খেলোয়াড় ততো সম্মান পান না/ তাকে আমাদের আরো বেশি মর্যাদা/সম্মান দেয়া উচিত

প্রিন্স
১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ৫:২৬

সাকিব আল হাসান যত বড় খেলোয়াড় ততো সম্মান পান না/ তাকে আমাদের আরো বেশি মর্যাদা/সম্মান দেয়া উচিত

Asm Alam
৯ জুন ২০১৯, রবিবার, ৬:৩৭

আপনার লেখাটি খুব ভালো লাগেছে, আমিও চাই সাকিব সত্যিকারের নেতার মতো ওর উত্তর আধিকার রেখে যাক যাতে জাতী সব সময় মনে রাখবে।

অন্যান্য খবর