× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর থেমে নেই ইয়াবা ব্যবসা

দেশ বিদেশ

আমানউল্লাহ আমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে | ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৩৪

কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারী নিহত হলেও প্রভাব পড়েনি ইয়াবা ব্যবসায়। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আগের মতোই ঢুকছে লাখ লাখ পিস ইয়াবা। এ সময় পাচারকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় শুধু বিজিবি গত ১লা জুন থেকে সাড়ে ১৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এবং ৪ জন পাচারকারী কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও ইয়াবা পাচার বন্ধ ও হ্রাস না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জনগণ। এদিকে গতকাল ভোর রাতে জাদিমুড়া নাফ নদী এলাকায় ইয়াবা পাচারকারীর সঙ্গে বিজিবির ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। এ সময় এক মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা, দেশি তৈরি একটি অস্ত্র ও দুই রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়। তবে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান আসার খবরে দমদমিয়া বিওপির বিশেষ টহল দল জাদিমুড়া নাফ নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষায় বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার  ইয়াবা, দেশীয় তৈরি একটি অস্ত্র ও দুইটি খালি খোসাসহ এক জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নিহতের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদক ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে পর্যন্ত ছেয়ে গেছে। কিশোর, যুবক, শিক্ষার্থী এমনকি বৃদ্ধরাও ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এসব ইয়াবা মিয়ানমার থেকে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়ে আসছে পাচারকারীরা। ওই ইয়াবাগুলো বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সূত্রে আরো জানা যায়, উখিয়া পালংখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত পয়েন্টের মধ্যে যে ক’টি আলোচিত চোরাইপয়েন্ট রয়েছে তার মধ্যে, টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, সাবরাং আলুগোল্লা প্রজেক্ট, শাহপরীর দ্বীপ গোলার পাড়া, সাবরাং, নয়াপাড়া ৪নং স্লুইসগেট, কেরুনতলী, হ্নীলার দমদমিয়া, জাদীমুরা, মোছনী, ওয়াব্রাং, হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ও উলুবনিয়া। এসব চোরাইপথ নিয়ন্ত্রণ করছেন ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এদের মধ্যে রোহিঙ্গারাও রয়েছেন। যদিও এসব চোরাই পয়েন্টে সীমান্ত রক্ষী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার রয়েছেন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি জওয়ানদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো নদী পার করে নিয়ে আসছে। সম্প্রতি পুলিশ-বিজিবির অভিযানে লাখ লাখ ইয়াবা জব্দ ও কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাচারকারীরা নিহত হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। ফলে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার বহাল তবিয়তে রয়েছে। সূত্র মতে বেশিরভাগ ইয়াবার চালান লবণ, পান, কাঠ, গ্যাস সিলিন্ডার, পশুবাহী ট্রাকসহ ওষুধ কোম্পানির গাড়ির আড়ালে পাচার হয়ে যায়। টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, মে মাসে সীমান্ত ও চেকপোস্টে বিজিবি অভিযানে ১১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৭ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল মালিকসহ এক লাখ ৮০ হাজার ৪৭ পিস এবং মালিকবিহীন ৯ লাখ ৩৬ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা। এই সব ইয়াবা  জব্দের ঘটনায় ২৯টি মামলায় ১৮ জনকে আটক করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া গত ১লা জুন থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত সাড়ে ১৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ও ৪ জন রোহিঙ্গাসহ চারজন পাচারকারী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
জানতে চাইলে টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান জানান, ইয়াবার কুফল নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু মৃত্যুতেই এর সুফল আশা করা সম্ভব নই। মূলত রোহিঙ্গারা এদেশে ইয়াবা পাচার করছে আর এদেশের রাঘববোয়ালরাই বসে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার এখনো কমেনি। তা প্রতিনিয়ত আটকের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে। ওইসব ঘাপটি মেরে থাকা রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সদা সতর্ক আছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর