× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

১৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

শেষের পাতা

ফেনী প্রতিনিধি | ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৩৮

সোনাগাজীর মাদ্‌রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চার্জগঠনের জন্য আগামী ২০শে জুন দিন ধার্য্য করেছেন। অভিযোগপত্রে নাম না থাকায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে।

আদালত (কোর্ট) পুলিশের পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী জানান, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ধার্য তারিখ ছিলো সোমবার। দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে জেলা কারাগার থেকে ফেনীর আদালতে আনা হয়। এ সময় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ জনসহ গ্রেপ্তার ২১ আসামি সবাই উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিদের ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে তোলা হয়। আদালত আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চার্জগঠনের জন্য আগামী ২০শে জুন ধার্য্য করেছেন। এর আগে গত ৩০শে মে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ফেনীতে হস্তান্তরের আদেশ দেন।


বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, অভিযোগপত্রের আসামি সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর ও সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্‌রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিনসহ ৭ আসামির পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সকল আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে সকল আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া এ মামলায় বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার নূর হোসেন, আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল এবং আরিফুল ইসলামের নাম অভিযোগপত্রে না থাকায় আদালত তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, ‘পিবিআই আদালতে যে অভিযোগপত্রটি দিয়েছে তার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে আমার বোনকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি’।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্‌রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৬ জনের মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় আটজন এবং এজাহারবহির্ভূত আটজন আসামি রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে ১২ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৬৪ ধারায় সাতজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন এবং ১৬১ ধারায় ৬৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। অভিযোগপত্রে সর্বমোট ৯২ জনকে সাক্ষী করেছে পিবিআই।

গত ৬ই এপ্রিল সোনাগাজীর মাদ্‌রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ওই দিন বিআলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ১০ই এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় মাদ্‌রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ্‌-দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান গত ৮ই এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৪ (১) ও ৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। দুই দিন পর ১০ই এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)।

এর আগে গত ২৭শে মার্চ ওই মাদ্‌রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। গত ৭ই এপ্রিল নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে দেয়া শেষ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ‘নেকাব, বোরখা ও হাতমোজা পরা পাঁচজন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।’ তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায়ও খুব শিগগির অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ফিদহার
১০ জুন ২০১৯, সোমবার, ১০:৪৯

ফাঁসিই হবে ওদের সঠিক বিচার ত্ররা সবাই পাপি

অন্যান্য খবর