× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

যে কারণে বিএসএমএমইউতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

দেশ বিদেশ

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ১২ জুন ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা গতকাল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তবে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৩ই জুন এই বিষয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহবান করা হয়েছে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন ড. কনক কান্তি। সূত্র জানায়, আন্দোলনকারীদের দেয়া অনিয়মের তথ্য উপাত্ত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমন অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে নিলে বিতর্ক আরও বাড়বে এমনটা আঁচ করতে পেরে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট সভায় পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত হবে। বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বলেন, তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভিসি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ৯ই জুন থেকে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। মৌখিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন গতকাল সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়ার জের ধরে ভিসির অফিস কক্ষ ভাঙচুর করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ভিসির রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন তারা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএসএমএমইউ-এর গেট, গেটের ভেতর ও মূল ভবনের ভেতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে, বেলা ২টা পর আন্দোলনকারীরা ভিসির কক্ষের সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে সরে যান। এ সময় তারা জানান, চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটা স্থায়ীভাবে স্থগিত করা না হলে আন্দোলন চলবে। বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বলেন, তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলমান। এদিকে সোমবার প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টাল সার্জন পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৫ জনের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর গতকাল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২০ জন মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে এ পরীক্ষা দিয়েছেন উত্তীর্ণরা। ৯ই জুন থেকেই অনশন ও তীব্র আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। তখন পুলিশ তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ৯ই জুন ভিসির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ ও আনসারের বাধাগ্রস্ত এবং লাঠিপেটায় আহত হন আন্দোলনকারীদের কয়েকজন। সেই থেকে অনশনে বসেছিল নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা শুরু হলে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে জমায়েত হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। পরে দুপুরে নিয়োগ স্থগিতে ঘোষণা দেন  ভিসি কনক কান্তি বড়ুয়া। আন্দোলনকারীরা জানান, আমরা যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায় দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমাদের জয় হবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি করে আমাদের নিয়োগবঞ্চিত করেছে। নিয়োগে অসংখ্য দুর্নীতি করেছে যা আমরা অনেক দিন ধরেই বলছি। তা গ্রাহ্য না করে বা আমাদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এখন নিয়োগ বাতিল হয়েছে। আমরা পুনরায় পরীক্ষা চাই ও এই  ভিসির  পদত্যাগ চাই দ্রুত। এসব দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।  গত এক মাস ধরে চিকিৎসকদের একটি অংশের অসন্তোষের কারণে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে এই আন্দোলন চলে আসে। পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি করেন অংশটি। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গিয়েছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ পড়ে মহাবিপদে। আদালতে রিটকারীরা বারবার তারিখ পরিবর্তন করে সময় ক্ষেপন করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র দাবি করছে।  সূত্র বলছে, চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং তাদের একটি অংশ আন্দোলন করছেন। এদের নেপথ্যে কাজ করছে ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের রোষানলের পড়ে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসক নিয়োগে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেয়ার দাবি করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের অংশটি ১৮ই মে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।  এতে তারা বলেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে গত মার্চে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তেরও আশ্বাস দেয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগেই বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয় বলে তারা  অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল ২২শে মার্চ, কিন্তু তার আগে ১৮ই মার্চ একটি বিশেষ কক্ষে প্রশ্নপত্র খোলা হয়। যেখানে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকরা দাবি করেন, কমপক্ষে ৬টি সুস্পষ্ট ও নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে পরীক্ষায়। ভিসিকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এই পরীক্ষা। তাই এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করে তা পুনরায় নেয়ার দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, ৩২ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থী এবং ভিসির ছেলেকে নিয়োগ দেয়ারও পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাইনুল হাসান শিপন, ডা. পাবন প্রমুখ। সূত্র জানায়, ১৮০ মেডিকেল অফিসার ও ২০ ডেন্টাল চিকিৎসক পদে নিয়োগে এ পর্যন্ত দুই দফা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২৭শে সেপ্টেম্বর। এর আগে ২২শে সেপ্টেম্বর, ২৩শে সেপ্টেম্বর ও ২৪শে সেপ্টম্বর ভিসি অফিস ঘেরাও, অবরোধ ও ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ। এক পর্যায়ে সিন্ডিকেটের সভায় পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। তারা ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রারকে অবরোধ ও গালিগালাজ করেন। গত ২২শে মার্চ পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ই মে এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। মোট ৬ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ২০০ চিকিৎসক পদে লিখিত পরীক্ষা ২০০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ১ পদের জন্য ৪ জনকে পাস করানো হয়। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা ১০ই জুন থেকে শুরু হয়। জানা গেছে, নিয়োগের জন্য মন্ত্রী-এমপি, আমলা, বিএমএ, স্বাচিপসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে তদবির আসে ১৮শর বেশি। এদিকে, গত ২০শে মে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি এমন কিছু অকৃতকার্য প্রার্থী নানা ধরণের অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য ও স্লোগান দিচ্ছে। দেয়াল লিখনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। তাদের এ ধরনের হীন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি ঘটছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর