× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম জয়ী আবদুল্লাহ নিহত

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জুন ২০১৯, বুধবার, ১০:১২

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র গ্রিন কার্ড পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন। কথিত মতে এক মদ্যপ মার্কিন নারীর প্রাইভেট কারে চাপা পড়ে চিরদিনের জন্য তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাংলাদেশে একটি ফটোকপির দোকানে কাজ করতেন, কম্পিউটার শেখাতেন। গতকালের নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে তিনি রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হলেন। তাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হলো। তিনি পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় ধরা পড়েনি। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।
আর তিনি সেই আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের মধ্য দিয়ে একটি উচ্চগতিসম্পন্ন মোটর গাড়ি তাকে চাপা দেয়। নারী গাড়ি চালকের ৪ বছরের সন্তানও তার সঙ্গে গাড়িতে ছিল।  সেই গাড়িতে কঠোর পরিশ্রমী এই বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ফুড ডেলিভারি ভ্যান আঘাতপ্রাপ্ত হয়। নারী চালকের নাম ট্রেজার লিগিন্স। তিনি একটি ২০০৭ ইনফিনিটি জি৩৫ মডেলের গাড়ি ঝড়ের গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাত ১০টা ৩৫ মিনিট হবে। পুলিশ বলেছে তার মোটরগাড়িটি ই-বাইকে উবারের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত আব্দুল্লাহ (২৯) কে আঘাত করে। সেই রাতে শেষ ফুড ডেলিভারি করে ঘরে ফিরছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয় তার দুর্ঘটনার খবর বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল দ্রুত। ২৪ বছরের ফখরুল ইসলাম একজন ড্রাইভার। তিনি বলেছেন, সবাই জানতে চেয়েছে আব্দুল্লাহর ভাগ্যে কি ঘটেছিল। রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে আমি ফোন কল পেয়েছি দুশ।
২২ বছর বয়স্ক লিগিন্স ইস্ট নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নরহত্যা, ক্রিমিনাল নেগলিজেন্স হোমিসাইড এবং মদ্যপ অবস্থায় তার চার বছরের সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। একটি অ্যাপস আব্দুল্লাহকে দুর্ঘটনার রাতে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। জেনি নামের একটি অ্যাপস দিয়ে বন্ধুরা নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত করত। তারা বন্ধুরা লক্ষ্য করলো, একটি স্থানে রোববার রাতে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আবদুল্লাহ অবস্থান করছে। সেটাই তাদেরকে উদ্বিগ্ন করলো। তাড়াতাড়ি তাকে সবাই ফোন দিতে থাকল। কিন্তু কোনো উত্তর এলো না।

আরিফুর রহমান সবুজ আরেকজন উবার ড্রাইভার আবদুল্লাহর সঙ্গে একই সঙ্গে থাকেন। তিনি বললেন, আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করলেন এবং বললেন আব্দুল্লাহ ফোন ধরছে না। তাই আমরা সেই জায়গায় গাড়ি চালিয়ে গেলাম। আর সেখানে গিয়ে দেখি পুলিশ। রহমান বলেন, তখন পুলিশ আমাদেরকে জানান, তিনি আর বেঁচে নেই। আব্দুল্লাহকে নিকটবর্তী ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৩৪ বছর বয়স্ক খোকন দোমিনাতে কাজ করেন। তার কথায়, আব্দুল্লাহ এই ফুড ডেলিভারির কাজ পছন্দ করতেন না। কিন্তু তাকে সেটা করতে বাধ্য হতে হতো। আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ একটি ফটোকপি এবং কম্পিউটার শেখানোর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। কিন্তু তার বন্ধুরা বলেছে, তিনি রাজনৈতিক কারণে টার্গেট  হন। ২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং তিনি ধরা পড়েন। টেক্সাসে চার মাস অন্তরীণ থাকার পর তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরখাস্ত মঞ্জুর হয়। ইসলাম বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তার দরখাস্ত মঞ্জুর হয় এবং এবছরই তিনি গ্রিন কার্ডের জন্য দরখাস্ত করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেটা আর হবে না। কারণ দুর্ঘটনা তার প্রাণ নিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য লিগিন্সের মা জেসমিন বেডফোর্ডে ২০০৮ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং সন্দেহ করা হয়েছিল তার মায়ের বয়ফ্রেন্ডই তার ঘাতক। নর্থ ক্যারোলাইনায় পুলিশ পরে তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল।
লিগিন্স ও তার ৪ বছরের ছেলে তাদের দাদার সঙ্গে বসবাস করেন। ৮১ বছর বয়স্ক দাদিমা বলেছেন, আমি তাকে রোববার দুপুরে প্রায় ৫টার দিকে শেষ দেখেছি। তাকে সে সময় ভালোই মনে হয়েছে। এটা আমার জন্য একটা আঘাত। কারণ তার নাতনি একজন ভালো মা। এবং একজন ভালো মানুষ।
লিগিন্স পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, বাচ্চাদের এক জন্মদিনের পার্টিতে দুর্ঘটনার ৪ ঘণ্টা আগে তিনি এক গ্লাস বক্স রেড ওয়াইন পান করেছিলেন।

প্রসিকিউটররা বলেছেন,  দুর্ঘটনার ২ ঘণ্টা পরে যখন তাকে তার রক্ত পরীক্ষার জন্য তার অনুমতি চাওয়া হয়, তাতে তিনি সম্মতি দেন। এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় আইনগত লিমিটের চেয়ে নিচে রয়েছে তার ইনটক্সিকেশন। সোমবার ক্রিমিনাল কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি চলাকালে বিচারক তাকে ৫০ হাজার ডলারে জামিন মঞ্জুর করেছেন। তার আইনজীবীরা আদালতে তাকে চোখ মুছতে দেখেছেন। প্রসিকিউটররা বলেছেন লিগিন্স পুলিশকে বলেছেন, তার ধারণা ছিল আবদুল্লাহ একজন গৃহহীন মানুষ। লিগিন্স এবং তার ছেলে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। লিগিন্সের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, লিগিন্স গাড়ি চালানোর সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। তাদের দাবি তার গাড়িতে সমস্যা ছিল। ইঞ্জিন বেল্ট এবং ব্রেক ঠিক ছিল না। তিন দিন আগেই তিনি গাড়িটি কিনেছিলেন। আইনজীবীরা বলেছেন এই গাড়ি যাদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আব্দুল্লাহর আত্মীয়-স্বজন বাংলাদেশে থাকেন এবং তাদের পক্ষে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। আব্দুল্লাহর চাচা বেলাল হোসেন (৫৯) একজন ড্রাইভার। তিনি হারলেমে বসবাস করেন। তিনি বলেছেন, তার মা কিছুতেই ছেলের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তার মা ছেলের দুর্ঘটনার কথা শুনে বলেছেন, এটা হতেই পারে না। আব্দুল্লাহর বন্ধুরা বলেছেন, আব্দুল্লাহ নিউ ইয়র্কে একটি ফ্রাইড চিকেন রেস্টুরেন্ট খোলার স্বপ্ন দেখতেন। তার চাচা বলেছেন, যখনই বোড়তে আসত বাসায়, তখনই তার কাছে নানা উপহার সামগ্রী থাকতো । আমি বলতাম, এসবের কোনো কিছু দরকার নেই।  কিন্তু সে শুনতো না। সে তার কাজে খুবই দক্ষ এবং বিশ্বস্ত ছিল। উবারের একজন মুখপাত্র মিজ যদি পেইজ বলেছেন, এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় আমরা বিচলিত। আমাদের শুভকামনা এবং সহানুভূতি রইল আবদুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের জন্য।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর