× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় থাইল্যান্ডে আটক রোহিঙ্গা ও ক্যাপ্টেনসহ ৭১

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:১৯

এক লাখ বাথ বা ১৩৩১৪ রিঙিতের বিনিময়ে ৬৫ রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের ৫ নাগরিককে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন একটি বোটের ক্যাপ্টেন সাংখোম পাফান (৪৯)। তিনি থাই নাগরিক।  তার বোট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওইসব মানুষকে। আটক রাখা হয়েছে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে। পুলিশ সন্দেহ করছে এসব মানুষকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হচ্ছিল। আন্দামান সাগর হয়ে তাদেরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য ওই ক্যাপ্টেনকে অর্থ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু থাইল্যান্ডের থার্ড নেভাল রিজিয়নের অফিসাররা মঙ্গলবার তাদের বহনকারী বোটটি আটক করে। এর তিন দিন আগে ওই বোটের জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তা সাতুনের মুয়াং এলাকার থামবোন কোহ সারাইয়ের কোহ রাওয়ি উপকূলে ভাসতে ভাসতে চলে যায়।
ফলে ওই বোটের ক্যাপ্টেন ও ৭০ আরোহীকে আটক করা হয়। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার অনলাইন দ্য স্টার।

উদ্ধার করা ৭০ অবৈধ অভিবাসীকে বুধবার থাই কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে সাতুন ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিস ও স্থানীয় দুটি পুলিশ স্টেশনের বন্দিশালায়। চালুং পুলিশ স্টেশনে বোটের ক্যাপ্টেন সাংখোম পাফান সহ প্রায় ২০ জন রোহিঙ্গাকে আটক রাখা হয়েছে। সেখানে ওই ক্যাপ্টেন স্বীকার করেন, মিয়ানমারের একজন তাকে এক লাখ বাথ দিয়েছে। বলেছে, বাংলাদেশ থেকে এসব অভিবাসীকে সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দিতে। অবৈধভাবে এসব অভিবাসীকে আরেক দেশে পাচারের জন্য তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে।

খবরে বলা হয়েছে, ওই বোটটি উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে তাদেরকে নামিয়ে নেয়া হয় ল্যাঙ্গু এলাকায় মূল ভূখন্ডে। বোটের ক্যাপ্টেন বলেছেন, তার বোটের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। ফলে মধ্য সমুদ্রে তিনি জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ার আশায় তিনদিন নোঙর করে রাখেন বোট। কারণ, চুক্তিতে তাকে এভাবে জ্বালানি সরবরাহ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রে প্রচ- ঢেউ থাকার কারণে তার কাছে ওই জ্বালানি সরবরাহ আসতে পারে নি। অন্যদিকে ঢেউয়ের আঘাতে তার বোটটি চলে যায় উপকূলের কাছে।
 
উদ্ধার করার পর যাত্রীদের মানবিকতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদেরকে মানব পাচারকারী চক্র প্রলুব্ধ করেছিল কিনা। ইতিমধ্যে সাতুন ইসলামিক কমিটির প্রেসিডেন্ট অরুন মাজি বলেছেন, তিনি তার অধীনস্তদের নির্দেশনা দিয়েছেন উদ্ধার করা ৬৫ মুসলিম রোহিঙ্গাকে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহায়তা দিতে। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদেরকে সংখøা’র রাত্তাফুমে একটি আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা এসোসিয়েশন ইন থাইল্যান্ডের চেয়ারম্যান সাঈদ আলম বলেছেন, থাইল্যান্ডের রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বোটের এসব আরোহীর দেখাশোনো করবে। কিন্তু তার আগে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে থাই কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার জন্য। আমাদের উদ্বেগ এসব রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা হবে এবং তারপর তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে মিয়ানমারে।
 
বুধবার ন্যাপিড থেকে পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিন্ট হতু বলেছেন, তাদেরকে অভিবাসী সম্পর্কে তখনও জানায় নি থাইল্যান্ড। অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো তারা তা জানাবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর