× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার
পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক আন্দোলন

চতুর্থ দিনেও অচল রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা, দেশজুড়ে চিকিৎসকদের সমর্থন

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৪ জুন ২০১৯, শুক্রবার, ১২:১৪

পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তার দাবিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে সারা ভারতের চিকিৎসকরা সংহতি জানিয়ে শুক্রবার প্রতীকি আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন প্রদেশের কয়েক লাখ চিকিৎসক ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। দিল্লির ওউমসের মতো হাসপাতালে আউটডোর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার শিয়ালদহের নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজে একজন বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে একদল দুষ্কৃতির হাতে নিগৃহীত হয়েছেন কতর্ব্যরত জুনিয়ার চিকিৎসকরা। দু’জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হযেছেন। একজনের খুলির হাড় ভেঙে মাখায় ভিতরে ঢুকে গেছে। এরপর থেকেই উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হলে ধরণা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
এর ফলে গত তিন দিনের মতো শুক্রবার চতুর্থ দিনেও পশ্চিমবঙ্গের সব মেডিকেল কলেজের স্বাস্থ্য পরিষেবা অচল হয়ে রয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের পরিজন হয়রানির মুখে পড়েছেন। এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীরাও অসহায় অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে, রাজ্য সরকার হুমকির মুখে আন্দোলনের মোকাবিলার পথ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। ইতোমধ্যে এনআরএস হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও সুপার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করেছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরাও। বীরভূমের সিউড়ি হাসপাতালের ৬৭ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজের ১৮ জন চিকিৎসকও পদত্যাগ করেছেন।  চিকিৎসকদের অভিযোগ, বারে বারে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মুখোমুখি আলোচনায় না বসায়, তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ। বৃহ¯পতিবার  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কটু মন্তব্য করার পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থার নেবার হুঁশিয়ারি দেবার পরে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। আন্দোলনকারীরা আরো কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তারা আন্দোলন তুলবেন না।  

আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের  চিকিৎসক মহল। এমনকি নার্সরাও আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনরাও। এসএসকেএম, বর্ধমান মেডিক্যালের মতো হাতে গোনা দু’-একটি হাসপাতালে নামমাত্র পরিষেবা চালু করা গেলেও পুরোপুরি অচল নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ। কার্যত ফুঁসছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী-আধিকারিকরা। আর জি কর, কলকাতা মেডিক্যাল, ন্যাশনাল মেডিক্যালের মতো প্রায় সব হাসপাতালেই চলছে গণ ইস্তফার প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে যান। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জানান, রাজ্যপালকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন তারা। তারা পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। কর্মক্ষেত্রেই রয়েছেন। রাজ্য সরকার তাদের দাবিদাওয়া পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ফের কাজে যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যেই স্বাস্থ্য পরিষেবা এক ভয়াবহ সঙ্কটের সম্মুখীন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shishir
১৪ জুন ২০১৯, শুক্রবার, ৪:০৩

বাংলাদেশ থেকে আমরাও সংহতি প্রকাশ করছি। তোমাদের আন্দলন আমাদেরকে ও পথ দেখাবে...এগিয়ে যাও......

অন্যান্য খবর