× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার

দুই বছর গুলির দুঃসহ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন নায়েক হানিফ

দেশ বিদেশ

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার, ৯:০০

নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ীর চরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া পুলিশের নায়েক মো. আবু হানিফ দুই বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। ২০১৭ সালের ২৬শে মে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে লাঠিয়াল বাহিনীর ছোড়া গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয় নায়েক হানিফের বাম পা। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরই কেটে ফেলতে হয় তার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙুল। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পায়ে এখনো গুলি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। এ কারণে চলাফেরা দূরে থাক দু’দণ্ড দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন না আবু হানিফ। উন্নত চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত ধুঁকছেন কর্তব্যকাজে জীবনবাজি রাখা এই পুলিশ সদস্য।
মো. আবু হানিফ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই এর সন্তান। তিনি বর্তমানে নরসিংদী সদর কোর্টে কর্মরত রয়েছেন।
প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই এর দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে বড় মো. আবু হানিফের পুলিশের চাকরি হওয়ার পর থেকে তিনিই ছিলেন পরিবারের আশার আলো। ২০১৭ সালের ৩০শে মার্চ পিতা আব্দুল হাই মারা যাওয়ার পর থেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আবু হানিফ। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৬শে মে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ীর চরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিতে আহত হওয়ার পর তছনছ হয়ে যায় সব। নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তাকে ছুটতে হয় হাসপাতালে। এরপরও হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত উন্নতি। ছেলের সুস্থতা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে গিয়ে ২০১৮ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মা জুলেখা খাতুন। শারীরিক অসুস্থতার মাঝে মায়ের এমন মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন হানিফ। এ অবস্থায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুলির দুঃসহ যন্ত্রণা বয়ে বয়ে এখন দিশেহারা তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিগত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাঁশগাড়ীর চরে দুই লাঠিয়াল বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত ৭টি হত্যাকাণ্ডসহ ৪১টি মামলা হয় রায়পুরা থানায়। এরপরও অব্যাহতভাবে চলে বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। ২০১৭ সালের ২৬শে মে বিকালে রায়পুরার বাঁশগাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪০/৪৫ জন পুলিশ সদস্য রূপ মিয়া মেম্বার, আজিজুল, জাকির ও হাবিবুর নামে চার লাঠিয়াল সর্দারকে রাজনগর কান্দাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাহেদ সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী রূপ মিয়া মেম্বারসহ চার জনকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশের উপর হামলা চালায়। তারা বন্দুক ও টেঁটা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে পেছন দিক থেকে হামিদ নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে যায়। লাঠিয়ালরা রূপ মিয়া মেম্বার ও অন্যদেরকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা ও টেঁটা নিক্ষেপ করে। এ সময় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পুলিশের নায়েক মো. আবু হানিফ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। ঠিক তখনই লাঠিয়ালরা নায়েক মো. আবু হানিফের পায়ে গুলি করে। গুলিতে রক্তাক্ত আবু হানিফকে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই কেটে ফেলা হয় তার পায়ের বৃদ্ধাঙুল। একদিন পর তাকে কেন্দ্রিয় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে আবু হানিফকে। ছুটতে হচ্ছে নিয়মিত হাসপাতালে। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেন না তিনি।
নায়েক মো. আবু হানিফ জানান, কেন্দ্রীয় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ঠিকভাবে চলাফেরা করতে না পারায় কিশোরগঞ্জের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, আবু হানিফের পায়ে আরও পাঁচটি গুলি রয়েছে। এখন এক সপ্তাহ পর পর ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয়। সরকার থেকে তাকে এক লাখ টাকা দেয়া হলেও চিকিৎসা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই সময়ে এলাকার এরশাদ উদ্দিন নামে এক মহৎপ্রাণ ব্যক্তি আবু হানিফের চিকিৎসার খোঁজখবরের পাশাপাশি কিছু সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এখন আর চিকিৎসার খরচ মেটানোর মতো কোন উপায় দেখছেন না আবু হানিফ। নায়েক মো. আবু হানিফ বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারি উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে ধুঁকে ধুঁকেই আমাকে মরতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর