× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

কটিয়াদীতে নৌকার সঙ্গে তিন বিদ্রোহীর লড়াই

বাংলারজমিন

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার, ৯:১১

আগামী ১৮ই জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় ধাপে স্থগিত হওয়া কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। ভোট গ্রহণের দিন যতোই কাছে আসছে, ততোই স্নায়ুচাপ বাড়ছে প্রার্থী-সমর্থকদের মাঝে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সরব পদচারণায় মুখর এখন কটিয়াদীর ব্যস্ত শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম। ছয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা), আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম), ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) ও আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার আনার (আনারস) এবং জাকের পার্টির প্রার্থী শহীদুজ্জামান স্বপন (গোলাপ ফুল) বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রার্থীরা দিন-রাত ভোট চাওয়াসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা-গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এর আগে নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালটে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগে গত ২৪শে মার্চ ভোটের দিন ভোট শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটিতেই ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এছাড়া রাতের ভোটে নেতৃত্ব দেয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা দিতে মুখিয়ে রয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। তাদের মতে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম), ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) ও আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল) মাঠে তৎপর রয়েছেন। এই তিন বিদ্রোহী প্রার্থীরই নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং বেশ শক্ত অবস্থান থাকায় বিএনপিবিহীন হলেও এই নির্বাচনে একটা আমেজ তৈরি হয়েছে। যে কারণে এখানে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে এখানে আওয়ামী লীগের বিভাজন অনেকটাই স্পষ্ট। এই বিভাজন দূরে ঠেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপী কতোটা সফল হতে পারেন, সেটি জানার জন্য ১৮ই জুনের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। যদিও আওয়ামী লীগের পদ-পদবীধারী নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে, আওয়ামী লীগের বিভাজন ততোই কমছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপী এর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণার তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। বসে নেই সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। সবমিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে তারা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর বলেন, জন্ম থেকে আওয়ামী লীগ করে আসছি। তাই প্রতিটি ভোটারের কাছে গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এর আগেও আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের সবাই আমাকে সৎ ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে চিনেন। দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী আমার সাথে আছেন। তারা আমার জন্য খেয়ে না খেয়ে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সুতরাং আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান জানিয়েছেন, কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি-গণসংযোগ করছি। আশা করছি সফল হবো।
নৌকার প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপী জানিয়েছেন, সকাল-বিকাল ও রমজানে মধ্যরাতে কটিয়াদী উপজেলার নৌকার সমর্থক প্রতিটি নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে গণসংযোগ করেছি। এছাড়া প্রচারণায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নৌকার পক্ষে কটিয়াদীতে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কটিয়াদী উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৬১৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থী হলেন, রেজাউল করিম শিকদার (তালা), মো. বকুল মিঞা (টিউবওয়েল), সদরুল হক (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মজিবুর রহমান (টিয়া পাখি), মো. কামরুজ্জামান (মাইক) এবং মো. আবুল কালাম (উড়োজাহাজ)। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী হলেন, সাথী বেগম (কলস), রোকসানা (ফুটবল) এবং মোসা. নওরীন সুলতানা (হাঁস)।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর