× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

হংকংয়ে সরকারের নতি স্বীকার, স্থগিত হলো প্রত্যাবর্তন বিষয়ক বিল

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, ৮:৪১

লাখো মানুষের তুমুল বিক্ষোভের মুখে বিতর্কিত একটি ‘প্রত্যাবর্তন আইন’ পাস বিষয়ক প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে হংকংয়ের সরকার। ওই আইনে বলা হচ্ছে, প্রত্যাবর্তন চুক্তি না থাকলেও হংকং থেকে যেকোনো আসামিকে চীনসহ যেকোনো দেশে পাঠানো যাবে। এরমধ্যে রয়েছে চীনও। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম এক ঘোষণায় আইনটি পাস করা বিষয়ক কার্যক্রম স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, আইনটি পাস হলে হংকংয়ে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। পূর্বে অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে হংকংয়ের সরকার এই আইন পার্লামেন্টে উত্থাপনের তারিখ পিছিয়ে দিলেও বাতিল বা স্থগিত করেনি। সরকারের ভাষ্য ছিল, হংকং যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সেজন্যই এই আইন প্রয়োজন। তবে শনিবার ল্যাম জানান, আমাদের কাজের মধ্যে থাকা ঘাটতি ও অন্যান্য বিষয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তিনি জানান, তার সরকার আপাতত আইনটি সম্পর্কিত সব কার্যক্রম স্থগিত রেখে এ বিষয়ে ফের চিন্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো জানান, আইনটি সম্পর্কে জনগণকে দেয়া ব্যাখ্যা ও যোগাযোগ পর্যাপ্ত ছিল না।
ল্যাম আগে জানিয়েছিলেন, বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিতে আইনে বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক মামলা এই আইনের আওতাভুক্ত হবে না। তিনি আরো বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে এই প্রস্তাবিত আইন সঙ্গতিপূর্ণ। শুধু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সমপৃক্ত ব্যক্তিবিশেষকেই এই আইন প্রয়োগ করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বিবেচনা করা হবে। এদিকে শনিবার তিনি বলেন, হংকংয়ের বৃহত্তর স্বার্থই তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। আইনটি পাস করার জন্য আগে যে তাড়া ছিল, সেটি হয়তো এখন আর নেই। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, রোববার আইনটির বিরুদ্ধে ফের বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা ছিল লাখ লাখ মানুষের। বিক্ষোভের আয়োজকরা বলেছেন, আইন বিষয়ক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিলেও, একেবারে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবেন। আইনটির সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এই আইনের কারণে স্বায়ত্তশাসিত এই শহরের ৭৩ লাখ বাসিন্দা, এমনকি এই শহরের বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ব্যক্তিবিশেষ চীনের সরকার-প্রভাবিত আদালতের নির্দেশের আওতাভুক্ত হয়ে যেতে পারেন। উল্লেখ্য, ১৮৪১ সাল থেকে বৃটিশ কলোনির অধীন ছিল হংকং। প্রথম অপিয়াম যুদ্ধের পর বৃটিশদের কাছে দ্বীপটি সমর্পণ করে দিয়েছিল চীন। পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালে সার্বভৌমত্ব অর্জনের পর ‘ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেম’ শর্তের আওতায় ফের চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয় হংকং। এতে চীনের অধীনে থাকলেও নিজস্ব শাসনব্যবস্থা থাকবে হংকংয়ের। তখন থেকে বর্তমান পর্যন্ত এটিই ছিল এই শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের একটি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর