× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার

মানবিক বিভাগে পড়েও এমবিবিএস ডাক্তার ‘মাসুদুল’

বাংলারজমিন

মাগুরা প্রতিনিধি | ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৩৭

মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরও একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার মাগুরার মাসুদুল হক। নিজেকে  চিকিৎসা সেবার একাধিক বিষয়ে পারদর্শী দাবি করে  নাক-কান-গলা থেকে শুরু করে পিত্তথলির পাথর, টিউমার, গর্ভপাতসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার ও নানা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার মাগুরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে মাগুরার ক্লিনিক মালিক সমিতি। মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ জানান, মাসুদুল হক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চিকিৎসক নন। নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি পিজিটি, সিডিডি সার্জন এ ধরনের যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন মাসুদুল হক। আসলে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করছেন তিনি। পরে ১৫ বছর রাশিয়ায় থেকে একটি ডিপ্লোমা সনদ জোগাড় করেন।
দেশে ফিরে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা প্রকার চিকিৎসা শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অসংখ্য রোগী মারা গেছেন। তারা আরো জানান, ২০০৫ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক রোগীর খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে গেলে ক্ষতস্থানে পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেয় মাসুদুল হক। পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা পুনরায় অস্ত্রোপচার করে ওই পলিথিন উদ্ধার করেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর তখন থেকে মাসুদুল হককে পলিথিন ডাক্তার হিসেবেও ডাকে মানুষ। ওই  ঘটনায় জেলেও যেতে হয়েছিল তাকে। জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৬ সালে কৌশলে ড্যাবের সদস্য পদ নেন ও বিএমডিএস চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন মাসুদুল। যার নম্বর-এ-৪৩২১৪। এই নিবন্ধনের পর তিনি মাগুরা ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি বিগত সময়ের অপকর্মে উপার্জিত অর্থে মাগুরা সদর হাসপাতালের পূর্বদিকে ১০তলা ভবন নির্মাণ করে তৈরি করেছেন নিজস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সেখানে সব রোগীর অস্ত্রোপচার করছেন তিনি। মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতৃস্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে গত সাত বছরে মাসুদুল হককে ভুয়া চিকিৎসক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েছি আমরা। কিন্তু কোনো সুফল হয়নি। বরং মাসুদুল হকের অপচিকিৎসা আরো  বেড়ে গেছে। এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, মাসুদুল হকের প্রকৃত নাম শহিদুল হক। মাসুদুল হকের এক আত্মীয় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর মারা যান। শহিদুল মৃত ওই আত্মীয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে মাসুদুল হক সেজে রাশিয়া গিয়ে ডিপ্লোমা করেন। নব্বই দশকের শুরুতে অনৈতিক পথে ড্যাবের মাধ্যমে ডক্টরস কাউন্সিলের সনদ  নিয়ে মাসুদুল হক সেজে এমবিবিএস চিকিৎসক বনে যান।
ক্লিনিক মালিক সমিতির অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, এ ব্যাপারে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক তদন্ত টিম গঠন করে মাসুদুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদুল হক বলেন, ‘আমি বিএমডিএস থেকে নিবন্ধন নিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমি সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য উপস্থাপন করবো।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর