× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার
কাউন্সিলেই হবে নতুন কমিটি

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৪২

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট জেলা বিএনপি। সরাসরি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন চায় কমিটি। এ কারণে মাত্র দেড় মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি   ভেঙে ফেলা হচ্ছে। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা সিলেটে বিএনপিকে ঢেলে সাজানো শুরু করবেন। ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা পর্যায়েও আসবে নতুন নেতৃত্ব। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এই পুনর্গঠনের কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানান তারা।
জেলা কমিটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও সিলেট মহানগর বিএনপি নিয়ে কোনো তৎপরতা নেই। মহানগর নেতারা জানিয়েছেন, এখনো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তরফ থেকে তাদের ডাক পড়েনি। ডাক পড়লেই তারাও পুনর্গঠনে হাত দেবেন।

২০০৯ সাল থেকেই সরকারের বাইরে বিএনপি। এর মধ্যে সিলেটের নেতারা কয়েক দফা মামলায় আক্রান্ত হয়ে কারাবরণ করেছেন। এরপরও সিলেটে বিএনপির শক্তি ক্ষয় হয়নি বলে মনে করছেন নেতারা। তারা বলেন, সিলেট বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকলেও বিরোধিতা নেই। এই অবস্থা উপজেলাগুলোতেও। এ কারণে আন্দোলনে দমন-পীড়ন থাকার পরও ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কর্মসূচি পালন করছেন। ২০১৬ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি নগরীর সোলেমান হলে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিলর অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সিলেট বিএনপি।

কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি হন আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক হন আলী আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। এই কাউন্সিল সিলেট জেলা বিএনপিকে অনেক বেশি এগিয়ে নেয়। শুরুতে পরাজিতদের পক্ষে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরবর্তীতে সবাই শান্ত হয়ে যান। অনুরূপ ভাবে কাউন্সিলরদের ভোটে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হন নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক হন বদরুজ্জামান সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক হন মিফতাহ সিদ্দিকী। সম্মেলন ও কাউন্সিলের আগে সিলেট বিএনপি কোন্দলের বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছিল। কিন্তু কাউন্সিলের পর সেই কোন্দল কমে আসে। সম্মেলনের প্রায় এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালের ২৬শে এপ্রিল গঠন করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গত ২৬শে এপ্রিল দুই বছরের এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কাগজে কলমে সিলেট জেলা বিএনপি মাত্র দেড় মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ। এত কম সময়ে সিলেটে বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া অতীতে কখনো হয়নি।

সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য একটি কাউন্সিল সম্পন্ন করার পর সিলেট বিএনপির নেতারা কেন্দ্রের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করেন। এবারো একই উদাহরণ গোটা দেশে সৃষ্টি করতে চান দলের নেতারা। এ কারণে এবারো তারা কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপি কমিটি গঠন করতে চান। ব্যর্থতার জন্য নয়, উদাহরণ সৃষ্টির জন্য সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে ফেলে কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে। এরই মধ্যে প্রায় দেড় মাস আগে সিলেট সফর করে গেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ হোসেন সহ অন্যরা। এর আগে সিলেট জেলা বিএনপির নেতারা ঢাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ সিলেটের নেতাদের দিয়েছিলেন।

এ কারণে আগে থেকেই জানা গিয়েছিলো সিলেট জেলা বিএনপি পুনর্গঠন করা হবে। জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন,  যেকোনো মুহূর্তে সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। সিলেটে এবারো কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে। এর আগে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন ও কাউন্সিল করবে আহ্বায়ক কমিটি। সবশেষে ওই কমিটি জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের কাজে হাত দেবে। তিনি বলেন, সিলেট বিএনপি কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে বাহবা কুড়িয়েছে। এ কারণে সিলেটের এবারের নির্বাচনও উদাহরণ হয়ে থাকবে। এদিকে নতুন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক কে হচ্ছেন এ নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই সিলেটে। তবে সিনিয়র কয়েকজন নেতা রয়েছেন-  তারা অভিভাবক হিসেবে আহ্বায়ক হতে পারেন।

এর মধ্যে রয়েছেন, সিলেট বিএনপির প্রবীণ নেতা এম এ হক, অ্যাডভোকেট নুরুল হক ও আব্দুল কাহির চৌধুরী। দলের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তারা আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপির কার্যক্রম পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে এবার তাদের মধ্য থেকে একজন নিতে পারেন সেই অভিভাবকের দায়িত্ব। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এদিকে সিলেট জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হলেও একই সময়ে গঠিত মহানগর কমিটি ভেঙে ফেলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে ভারপ্রাপ্তের দখলে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তরফ থেকে মহানগর বিএনপির নেতাদের ডাক পড়েনি। তবে মহানগর নেতারাও প্রস্তুত রয়েছেন। রমজানে সপরিবারে ওমরা পালনে গিয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন। তিনি দেশে ফিরেছেন। সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক বলেন, আমরা এখনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ডাক পাইনি। ডাক পেলেই আমরা যাবো এবং পরবর্তী কাজ তার নির্দেশনা মতোই করবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর