× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা

১৫ মাস ধরে কর্মস্থলে নেই চিকিৎসক

অনলাইন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | ২৩ জুন ২০১৯, রবিবার, ৪:০২

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার চরাঞ্চলের নিরীহ মানুষ। এছাড়া এ কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার গত ১৫ মাস ধরে কর্মস্থলে না এসেও সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালে চর আলেকজান্ডার ২০ শয্যার হাসপাতালকে ৩১ শয্যায় উন্নতি করে সরকার। এরপর থেকে শুরু হয় রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। কিন্তু গত ১০ বছরেও গড়ে উঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষে ৩১ শয্যার হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিকিৎসক সঙ্কটে ভূগছে। উপকুলীয় এলাকা রামগতি চরাঞ্চল হওয়ায় চিকিৎসকরা এখানে আসতে যেমন রাজি হচ্ছে না, তেমনি কেউ আসলেও  নিয়মিত হাসপাতালে থাকছেন না কিংবা এখান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যায়। ফলে এ উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  

সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও অনেকদিন ধরে ৮টি পদই শূন্য রয়েছে।
এছাড়া ৮ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে বর্তমানে ৪ জন কর্মরত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুজনা বেগম নামে এক মেডিকেল অফিসার হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ১৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে ৬ জন কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়া ২০১৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল আবিদা সুলতানা নামে এক মেডিকেল অফিসার এ হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর ১৫ মাস পার হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে একাধিকবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার চিটি দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না এসে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে, কামনা শীষ মজুমদার নামের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ চিকিৎসক প্রায়ই বিভিন্ন ফার্মেসীতে গিয়ে ড্রাগ লাইসন্স দেখার কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সদ্য বদলীকৃত চিকিৎসক সুজানার সঙ্গেও অসদাচরন করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্মরত এক চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এদিকে সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় মেজবাহ উদ্দিন, জাফর আহম্মদ, কুলছুমা বেগম, আবুল কালামসহ বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু নদীভাঙা রামগতি উপজেলার নিরীহ গরীব মানুষগুলো ডাক্তার সঙ্কটের কারণে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। তাই রামগতি হাসপাতালে ডাক্তারদের শূণ্যপদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
 
হাসপাতালে ভর্তিকৃত বেশ কয়েকজন রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ যেমন ভালো নয়, তেমনি ডাক্তার কম থাকায় রোগীরা ভালো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। যাদের সামর্থ্য আছে তারা এ হাসপাতালে আসে না।
 
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক কামনা শীষ মজুমদার বলেন, সঠিক সময়ে কর্মস্থলে এসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি। অপরদিকে ডাক্তার আবিদা সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল জানান, চরাঞ্চলের গরীব মানুষ ডাক্তার সঙ্কট থাকার কারণে ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। টাকা-পয়সার অভাব থাকায় অনেকে নোয়াখালী কিংবা লক্ষ্মীপুর গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আবদুর রহিম জানান, হাসপাতালে জনবল সঙ্কটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার কারণে আবিদা সুলতানাকে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্য চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Selina
২৩ জুন ২০১৯, রবিবার, ৪:৫০

It needs to prohibit private practice of government employee doctor all over the country. urgently .

অন্যান্য খবর