× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচন আজ

বাংলারজমিন

রাশেদ আহমদ খান, হবিগঞ্জ থেকে | ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:১০

আজ হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচন। জেলায় ১ম ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে রয়েছে কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এবারের নির্বাচনে হবিগঞ্জের টানা কয়েকবারের নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা জিকে গউছ অংশগ্রহণ করছেন না। তাই নির্বাচনের মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মাঝেই। তবে নির্বাচনে বিএনপির এক নেতাসহ মোট ৫ প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবার দলীয় জোর লবিং করে নৌকা নিয়ে আসেন মিজান।
তবে এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু। আর এ দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনে পৌর এলাকার আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে মরিয়া টিটু। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও তার সঙ্গে দিন-রাত কাজ করছেন। ক্লিন ইমেজের লোক হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় রয়েছেন টিটু। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে শহরে বিশাল মিছিল-শোডাউন করে নির্বাচনী মাঠ জমিয়ে রেখেছেন মিজান। পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন মিজান।
এদিকে হবিগঞ্জের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভোটারদের হুমকি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন্ন অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিলাদ্রী শেখর টিটু। গত শনিবার বিকালে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে টিটু অভিযোগ করেন, বিগত পৌর নির্বাচনে বর্তমান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান ভোটকেন্দ্র দখলসহ কালো টাকার ছড়াছড়ি করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করেন। সে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো গত নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানকেই এবার নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। ফলে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কালো টাকার ছড়াছড়ি, তার বিপক্ষের ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়ম করে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছেন মিজান। ক্ষমতাসীন দলের দু’জন সংসদ সদস্যও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তার পক্ষে সভা-সমাবেশ করছেন।
এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
পৌরসভার ২০টি কেন্দ্রে ‘ইভিএম’ পদ্ধতিতে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় প্রথম ইভিএম-এর সঙ্গে পরিচয় ঘটবে পৌরবাসীর। পৌরসভার ৪৭ হাজার ৮২০ জন ভোটার মাত্র দেড় বছরের জন্য নির্ধারণ করবেন নতুন মেয়র। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ প্রার্থী। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান মিজান (নৌকা), অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু (নারিকেল গাছ), স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা  সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ), আওয়ামী লীগ নেতা মো. মর্তুজ আলী (চামচ) ও বিএনপি নেতা এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন)।
শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শেষ হয়ে গেছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। গতকাল বিকালে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ২৮শে নভেম্বর মেয়র জিকে গউছ পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ২৪শে জুন ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ৯.৫ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এটি ১ম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃত। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮২০। ৯টি ওয়ার্ডে ১৪১টি ভোট কক্ষে ২০টি ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ২৩ হাজার ৮৩৮ ও নারী ভোটার ২৩ হাজার ৯৮২ জন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর