× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার

ইফা ডিজি বহাল সুর পাল্টাচ্ছেন কর্মকর্তারা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, ৯:৪৭

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন, অবস্থান কর্মসূচি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ  সম্মেলন, মন্ত্রণালয়ে বোর্ড অব গভর্নর্সের সভাসহ নানা নাটকীয়তার পরও স্বপদেই বহাল থাকছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধিকাংশ কর্মকর্তা ডিজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও এখন তাদের সুর নরম হতে শুরু করেছে। জানা গেছে, শনিবার ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরর্স এর সভা থেকে ডিজির পদত্যাগের কথা থাকলেও আগামী ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বপদেই বহাল থাকছেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তের পর থেকে কর্মকর্তাদের সুর নরম হতে শুরু হয়েছে। ডিজি সামীম আফজালের একান্ত সচিব জাকের হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি কোনো সাংবিধানিক পদ না। তাই ডিজিকে বরখাস্ত করার কোনো বিষয় নেই। তিনি চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। এখন তিনি নিজে পদত্যাগ করতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলেন, ডিজির অপসারণ বা পদত্যাগের দাবিতে তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তারা আন্দোলন করেছিলেন। ঘটনাটি শেষে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজ খবর নিয়েছেন। পরে হঠাৎ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্স এর সভা ডাকা হয় মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এই ধরনের সব সভা ইতিপূর্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনেই হয়েছে। এটিই প্রথম মন্ত্রণালয়ে সভা হল। ওই সভা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কোনো নিয়োগ, বদলি বা অপসারণের সিদ্ধান্ত ডিজি একা নিতে পারবেন না। বোর্ড অব গভর্নর্সের অনুমোদন লাগবে। যারা আন্দোলন করেছিল ডিজির বিরুদ্ধে তাদের বদলির ক্ষেত্রেও ডিজি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ডিজির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বোর্ড। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ডিজির উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে ডিজি পদত্যাগ না করায় তার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বপদেই বহাল থাকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার সচিবালয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্স এর সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম হোমাম্মদ আফজাল তার পদে বহাল ছিলেন, এখনও আছেন। ডিজির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের ভার তার ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ১০ই জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে সমপ্রতি সাময়িক বরখাস্ত করেন ইফা ডিজি সামীম। এ সংক্রান্ত আদেশকে কেন্দ্র করে এ শোকজের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

সাপ্তাহিক বন্ধের দিন পদত্যাগপত্র জমা দিতে সংস্থাটির সচিব কাজী নূরুল ইসলামকে অফিসে ডেকেছিলেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল। পদত্যাগপত্র টাইপ করা হলেও তাতে স্বাক্ষর করে জমা দেয়া বাকি ছিল। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশত ফাইল গাড়িতে করে দপ্তর থেকে সরানোর চেষ্টা করেন ডিজির আস্থাভাজন একজন পরিচালক। এমন ঘটনা টের পেয়ে এতে বাধা দেন ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। ফাইলগুলো জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। এই ঘটনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেঁকে বসেন ডিজি সামীম আফজাল। এর আগে গত সপ্তাহে চারদিন যাবত ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর প্রেক্ষিতে সামীম মোহাম্মদ আফজালকে শিগগিরই ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে এবং তার স্থলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিবকে আপাতত দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন ওঠে। এই খবরে বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন ইফার আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সামীম মোহাম্মদ আফজাল গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তিনি নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর