× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

নকলা পৌর মেয়রকে হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

বাংলারজমিন

শেরপুর প্রতিনিধি | ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৩০

 শেরপুরের নকলা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান লিটনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৩শে জুন রোববার সন্ধ্যায় পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এদিকে ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহানের বড় ভাই শাহ ফুয়াদ (৫২)কে প্রধান আসামি করে রাতেই নকলা থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সৌরভ, রাকিব ও সেলিম নামে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করে। সোমবার বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে নকলা পৌর মেয়রের ওপর ওই হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে পৌর পরিষদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছাড়া সোমবার দুপুরে শেরপুর পৌরসভার সভাকক্ষে মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের সভাপতিত্বে পৌর পরিষদ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সংসদের যৌথ উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, পঞ্চম দফায় গত ১৮ই জুন অনুষ্ঠিত নকলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন।
তিনি রোববার সন্ধ্যার দিকে অফিসের কাজ সেরে একটি মোটরসাইকেলে করে উপজেলা শহরে ফেরার পথে পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছলে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিনের বড় ভাই শাহ ফুয়াদ লোকজন নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেলের ওপর হামলা করে তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে লাঞ্ছিত করে গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সময় সহকর্মীরা এগিয়ে গেলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। অন্যদিকে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে অবস্থান নিতে থাকে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে শহরে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জেলা সদর ও পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নকলায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। হামলার প্রতিবাদে রোববার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার বর্ণনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন। ওই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে শাহ ফুয়াদ কিংবা তার পক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, নকলায় পৌর মেয়রের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতি পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে রাতেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা গ্রণ করা হয়েছে এবং ওই মামলায় ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর