× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

চিরিরবন্দরে সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

বাংলারজমিন

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৪২

‘বাহে এ্যাইঠে হামাক একখ্যান পুল বানে দ্যাও। এ্যাইঠে পুল না হইলে হামার যে খুব অসুবিধা হচে। কতদিনে যে এ্যাইঠে এ্যাকখান পুল হইবে। হামার এ্যাইলার দুঃখ ঘুচিবে’- কথাগুলো বলছিলেন নশরতপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা আমেনা বেগম (৬৫)। তিনি আরো বলেন, ‘হামরা নদীর ওই পারত যায়া আবাদ করি, গরু-ছাগলগুলাক ঘাস খাওয়াই।’ কিন্তু সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তারা এসব কাজকর্ম করতে পারছেন না। তাদেরকে দূর দিয়ে ঘুরে গিয়ে কাজকর্ম সারতে হচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাণীরবন্দর হাটের উত্তর-পূর্ব কোণে ইছামতি নদীর ওপরে নির্মিত অন্তত ৭০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কালো বৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে গিয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি, দুবলিয়া, লালদিঘী, ক্যানেলেরবাজার, পীরেরহাট এবং চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর, আলোকডিহি, গছাহার, চকগোবিন্দ, উত্তর পলাশবাড়িসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। এ বাঁশের সাঁকোটি দিয়েই এসব এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ হাজার লোক যাতায়াত করেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফতেজংপুর ইউনিয়নের চকগোবিন্দ গ্রামের আব্দুল লতিফ (৬৫) জানান, ‘সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে অটোরিকশা কিংবা রিকশাভ্যানযোগে ঘাটের পাড় হয়ে কলেজ মোড় দিয়ে গন্তব্য স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে এসব এলাকার লোকজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানান, নির্ধারিত সময়ে আমরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাণীরবন্দরহাটে নিতে পারছি না। এতে স্বল্পমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের নিক্কন দাস (৫০) জানান, ‘এ স্থানে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি অনেক পুরনো হওয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অর্থের ব্যবস্থা করে সাঁকোটি আবার নির্মাণ বা মেরামত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা চলাচলে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি। সাঁকোটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।’ তারা আরো বলেন, এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এ স্থানে ইছামতি নদীর ওপরে ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছি। তারপরেও কেন জানি এ স্থানে ব্রিজটি নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুর ইসলাম শাহ্‌ নুরু জানান, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের। তা পূরণ হতে চলেছে। এখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই সরকারিভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর