× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

জাবিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাড়ছে সংঘর্ষ

শিক্ষাঙ্গন

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন, জাবি প্রতিনিধি | ৪ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৩১

বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব সংঘর্ষ সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বুধবার মিষ্টি খাওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে লাঠিসোটা, রামদা, চাপাতি নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেয় উভয় পক্ষ। এসময় বঙ্গবন্ধু হলের তিন ছাত্রলীগ নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।

এছাড়াও চলতি বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ সালাম বরকত হলে আক্রমণ করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বেধে যায় তুমুল সংঘর্ষ।
এর আগে গত বছরের ২রা অক্টোবর ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায়ও মীর মশাররফ হোসেন হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।

বুধবারের বঙ্গবন্ধু ও ভাসানী হলের সংঘর্ষের ঘটনায় অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দশ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগের ১৩ই ফেব্রুয়ারি সালাম বরকত ও বঙ্গবন্ধু হলের সংঘর্ষের ঘটনায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলমকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে জমা দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া গত বছরের ২রা অক্টোবরের আল বেরুনী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের সংঘর্ষের ঘটনায় কোন তদন্ত কমিটিই গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কোন ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ছাত্রলীগের কোন সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকেই শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। এর ফলে ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রত্যেকটি সংঘর্ষেই আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। হলগুলোতেও আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এতে যেকোন সময় যেকোন শিক্ষার্থী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এটা নিয়ন্ত্রনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা প্রয়োজন।

সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, সারা দেশেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। যা অপরাধীদেরকে অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ মদদ যোগায়। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার আজ অব্দি বিচার হয়নি। গতবছরের অক্টোবরে সংঘটিত যৌন হয়রানীর ঘটনায় এমনকি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। এই ঘটনাতেও ছাত্রলীগের নাম পত্রিকায় এসেছে। এ ধরনের শৈথিল্য নজীর হিসেবে নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট সকলে এ ধরনের নজীর থেকে ভুল বার্তা পান, যে অপরাধ করলেও পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব।
সদস্য সচিব অধ্যাপক জামাল উদ্দীন রুনু বলেন, বুধবারের অনাকাক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। এরকম সংঘর্ষের ঘটনা পুন:পুন ঘটছে। অতীতের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার সংঘর্ষের প্রবণতা বাড়ছে। দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনে প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিশ্ববিদ্যালয় যে তদন্ত কমিটি তদন্ত কমিটি নাটকের জন্ম দেয় তা সকলের কাছেই এক সহজলভ্য, কমেডিতে পরিণত হয়েছে। আর চা নাশতা কেন্দ্রিক এই তদন্ত কমিটির একমাত্র কাজ যে অপরাধীদেরকে বারবার শাস্তির আওতায় থেকে মুক্ত করে তাকে পুনর্বার অপরাধ করতে উৎসাহিত করে তাও কারো অজানা নয়। একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই পারে জাতীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে এখানে সততার সাথে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে। তবেই হয়তোবা এই সস্তা নাটক বন্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, আগের ঘটনার মত এবারও বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। আমি এবিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক হতে বলেছি। তারা দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিবেন। যে কোনো সময় যে কোনো হলে রেড হতে পারে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক তদন্ত কমিটি হয়। কিন্তু এইসব তদন্তের দীর্ঘ সূত্রিতা রয়েছে। অনেক সময় শিক্ষকরা ব্যস্ততা দেখিয়ে দায়িত্ব নিতে চান না। ইতিমধ্যে যেসব তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে এসেছে তা একটি আলাদা সিন্ডিকেট ডেকে আমরা বিচার করবো।

তিনি আরো বলেন, হলগুলোতে পুলিশি তল্লাশি চালানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। এটা আমরা ঘোষণা দিয়ে করবো না। যেকোন সময় আমরা তল্লাশি চালাবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর