× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার

হরতালের পর মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাম জোটের

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার, ৮:৫৩

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে আধাবেলা হরতাল পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট। হরতাল শেষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৪ই জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি রয়েছে। হরতাল উপলক্ষে গতকাল সকাল ৭টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানীর পল্টন, শাহবাগ, মালিবাগ, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, নয়াপল্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, লালবাগ , মোহাম্মদপুর ও প্রেসক্লাব এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করেন। কিছু সড়কে যানবাহন আটকে দেয়ায় পুলিশ বিকল্প সড়কে পাঠিয়ে দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা। সকাল ৯ টার দিকে পল্টন এলাকায় হরতালকারীরা নিউ ভিশন পরিবহনের ২ টি বাস ভাংচুর করে। এসময় পুলিশ বাম জোটের দুই কর্মীকে আটক করে।
পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে হরতালের সহিংসতা এড়াতে ঢাকার মূল পিকেটিংস্থল মতিঝিল, পল্টন, দৈনিক বাংলা এবং পল্টন মোড় ও বায়তুল মোকারম এলাকায় পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। পিকেটিং স্থলগুলোতে পুলিশের রায়ট কার ও জলকামান মোতায়েন ছিল। দুপুর ১ টার দিকে রাজধানীর বিভিন্নস্থান থেকে হরতালকারীরা পল্টন মোড়ে সমাপনী সমাবেশে মিলিত হন।

এসময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেন নান্নু ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১৪ জুলাই রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও এবং ১৯ জুলাই ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশ। যদি সরকার এর মধ্যে গ্যাসের দাম না কমায় তাহলে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়।

সকাল ৭ টার দিকে পল্টন এলাকায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা মুক্তি ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন। এসময় কিছু নেতাকর্মী পল্টন মোড়ে গিয়ে বসে পড়েন। আর কিছু নেতাকর্মী নয়াপল্টন, প্রেসক্লাব, কাকরাইল ও শাহবাগের দিকে চলে যান। পল্টন মোড়ে তারা অবস্থান নিয়ে সড়কে বসে পড়লে পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়।
একপর্যায়ে নিউভিশন পরিবহনের দুইটি বাসের সামনের গ্লাস তারা ভাংচুর করলে পুলিশ সেখান থেকে সিহাব ও রতন নামে দুইজনকে আটক করে। পরে অবশ্য ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, সকাল ৭ টা থেকে শাহবাগে অবস্থান করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কে ছোট কাঠের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশ তাদের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান ছেড়ে জাদুঘরের সামনে যেতে বললে দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশের কথা শুনেননি। এসময় শাহবাগের আশপাশের সড়কে প্রচণ্ড যানযট দেখা দেয়। পুলিশ যানবাহনগুলো পরিবাগ থেকে হেয়াররোডের দিকে পাঠিয়ে দেয়। তবে বেশী দুর্ভোগে পড়েছিলেন নিউমার্কেট ও সাইন্সল্যাব থেকে আসা যানবাহনগুলোর যাত্রীরা। এসময় অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে গন্তব্যস্থলে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, সেক্রেটারি অনিক রায় ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সভাপতি মাসুদ রানা।
এদিকে, পল্টন মোড়ে আধাবেলা হরতাল শেষে দুপুর ১ টার দিকে সমাপনী বক্তব্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী মোশারফ হোসেন নান্নু বলেন, বর্তমান সরকার বুর্জোয়াদের সরকার। তারা গরীব মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করে না। যখন আমাদের পাশের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্যাসের দাম কমছে তখন তারা গ্যাসের দাম বাড়ালো। তারা ভাবলো না যে, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন আছে। সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে তাদের প্রভু গ্যাস খেকো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে খুশি করেছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, সরকার ধনিক লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। তারা জনগণের স্বার্থের দিকে তাকাচ্ছেন না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর