× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার
আলু ভর্তা নিয়ে ঝগড়া

নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:০৩

 নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছে স্বামী। গত সোমবার মধ্যরাতে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় পলি আক্তার (২৮) ও জামাল হোসেন (৩৫)কে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পলিকে মৃত ঘোষণা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামাল হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আলুর ভর্তা করা না করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত জামাল হোসেন ও তার স্ত্রী পলি আক্তার ফতুল্লার আদর্শনগর এলাকার মোশারফ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটে। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তবে পলি তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিলেও জামালের প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।
তারা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। নিহত পলি পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ থানার ময়দশ্রীনগর এলাকার শাহজাহান শিকদারের মেয়ে। নিহত জামাল হোসেন একই উপজেলার সুবিদখালীর সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। জামাল ও পলি সম্পর্কে মামাত-ফুফাতো ভাইবোন। পলি ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ বিসিক শিল্পনগরে অবস্থিত ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিক এবং জামাল নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন।
নিহত পলির ছোট ভাই মাঈনুল ইসলাম বলেন, সোমবার মধ্যরাতে ভাগ্নে শাহজাদা তার বড় খালাকে গিয়ে খবর দেয় যে, বাবা-মা বিছানায় পড়ে আছেন। মায়ের গায়ে রক্ত আর বাবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। এ খবর পেয়ে তার বড় বোনের জামাই আক্তার হোসেনসহ অন্য আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত পলির ঘরে গিয়ে দেখেন, পলির মুখের সামনের পাটির দাঁতগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে, আর জামালের দেহের পাশে একটি কাঁচের বোতল। তার মুখ দিয়ে ফেনা বেরুচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পলিকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় জামালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জামালও মারা যায়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ছোট্ট শাহজাদা পুলিশকে জানিয়েছে, গত কয়েকদিন যাবৎ বাবা জামাল হোসেন কাজে যায়নি। সোমবার রাতে মা কাজ থেকে ফিরে। তবে তার মন খারাপ ছিল। এদিকে বাবা বাসায় থাকায় সে রাতে খাওয়ার জন্য আলু সেদ্ধ করে রাখে। মা বাসায় ফিরলে বাবা মাকে আলুর ভর্তা বানাতে বলে। ওই সময় মা বাবাকে বলে, আমি তো রাতে খাবোই না, ভর্তা বানাবো কার জন্য। ওই সময় উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাহজাদা ঘুমিয়ে পড়ে। মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে বাবা-মায়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখে। এ দৃশ্য দেখে সে আবারো ঘুমিয়ে পড়ে। আরো কিছু সময় পর হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেলে জেগে উঠে দেখে ঘরের বাতি নেভানো, কোনো সাড়া-শব্দ নেই। ঘরের বিছানায় মায়ের রক্তাক্ত দেহ চাদর দিয়ে ঢাকা, আর বাবা বিছানার এক কোণে ঝিম মেরে বসে আছে। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে সে দ্রুত পাশের ঘরে থাকা বড় খালাকে গিয়ে ঘটনা জানায়।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর