× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

কসবায় যুবলীগ নেতা হত্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:২৬

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আর তার ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মেহারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন জসিমকে। হত্যা ঘটনায় জড়িত মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শিদ (৪২), তার ভাই জাকির হোসেন (৪৮)সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে কসবা থানায়। মৃত্যুর আগে শওকত নিজেও তাকে মারার সঙ্গে এদের জড়িত থাকার কথা বলে গেছেন। এই আসামিদের মধ্যে যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইয়ানুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার আদালত ইয়ানুরের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গত ৫ই জুলাই রাত সাড়ে ৯ টায় শওকত হোসেন জসিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তালা দিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে ইউপি সদস্যের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই মো. আলা উদ্দিন বাদী হয়ে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সম্পত্তি ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধে শওকতকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার পরই পুলিশ যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ইয়ানুরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আদালতে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। ইয়ানুর ছাড়া আর কোন আসামি ধরা পড়েনি। মামলার প্রধান আসামি করা হয় সাবেক বিএনপি নেতা যমুনা গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেনকে। আর তার ছোট ভাই মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শিদকে করা হয় ২ নম্বর আসামী। অন্যান্য আসামিরা হচ্ছে- ফরহাদ মিয়া, মাইনুদ্দিন, মোবারক মিয়া, মো. জসিম, মিলন মিয়া, গোলাম সামদানী, আল-ই এমরান রেজা, ওয়াসিম, ইয়ানুর, রুহুল আমিন, আবদুল গনি, আল আমিন, শুক্কু মিয়া, রাসেল মিয়া, সাঈদী, হ্নদয়। পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ইউপি সদস্য শওকত  হোসেন এবং জাকির ও মুর্শিদের বংশের মধ্যে ৩ যুগেরও বেশি সময়  ধরে বিরোধ চলে আসছে। এলাকায় জনপ্রিয়তায় বিপুল অর্থবিত্তের মালিক মুর্শেদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন শওকত। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শওকত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মুর্শিদ চেয়েছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে। কিন্তু শওকত তাকে সমর্থন দেননি। এনিয়ে তাদের বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে। মুর্শেদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে কাঁটা হয়ে ওঠেন শওকত। শওকত মৃত্যুর আগে হাসপাতালে মুর্শেদসহ কয়েকজনের নাম বলে গেছেন। এরাই তাকে মেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। শওকতের জবানবন্দিমূলক একটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত শওকতের স্ত্রী মোছাম্মৎ শিউলি আক্তার জানান, টাকা দিয়ে তার স্বামীকে কিনতে চেয়েছিল মুর্শেদ। কিন্তু আমার স্বামী টাকার কাছে বিক্রিয় হয়নি। মুর্শেদের কথা মতো না চলার কারণে সে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই না পেরে হত্যার পরিকল্পনা করে মুর্শেদ। আমি আমার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আসাদুল ইসলাম জানান শওকতকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কুপানোর পাশাপাশি পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়।
এরপর হামলাকারীরা এই অবস্থায় তাকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের ভেতর তালা দিয়ে ফেলে রাখে। যাতে রক্তক্ষরণ হতে হতে সেখানেই মারা যায় সে। খবর পেয়ে তার আত্মীয়স্বজন বিদ্যালয়ের কক্ষের তালা ভেঙে উদ্ধার করে। তিনি জানান- ঘটনার পরই অন্যান্য আসামিরা গাঢাকা দিয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Ibrahim
১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৬:২৬

যারা ক্ষমতার লোভ এবং টাকার অহংকারে মানুষ খুন করতে পারে তাদের অর্থ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক, এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি , এবং ফাঁসি চাই,,,

অন্যান্য খবর