× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

কিশোরগঞ্জে ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি হলো ১৫৩ জনের

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:২৬

কিশোরগঞ্জে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষার সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা ফি ১০০ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ১৫৩ জন ছেলে-মেয়ে, যাদের বেশির ভাগই অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে এতিম, আনসারও রয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলায় এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক মিডিয়া ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ কথা জানান।
পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ১৫৩ জনকে চাকরির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১২০ জন এবং মহিলা ৩৩ জন। এছাড়া ১১ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এখন মেডিকেল ও পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। সেটি সমাপ্ত হলে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করা হবে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৯শে জুন অনুষ্ঠিত শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় ৪ হাজারের মতো প্রার্থী অংশ নেয়। তাদের সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা ফি ১০০ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়েছে। ফর্ম ফি তিন টাকা তিনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষাকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয় এবং মোট ৭৭৮ জন যোগ্য প্রার্থীকে প্রাথমিক বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র দেয়া হয়। ৩০শে জুন অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ২৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়। তাদের মধ্যে থেকে ১৫৩ জনকে চাকরির সুপারিশ করা হয়েছে এবং ১১ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমরা হার্ডলাইনে ছিলাম। আমরা মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট এবং স্থানীয় কেবল টিভিতে এ ব্যাপারে প্রচারণা চালিয়েছি।
পুলিশ সুপার জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে কেউ যেন টাকা কিংবা প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার নামে প্রতারিত না হন সেই লক্ষ্যে প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোয় নিয়োগ নিয়ে কোন প্রতারণার খবরও শোনা যায়নি। মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুল ইসলাম সোপান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অনির্বাণ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কনস্টেবল নিয়োগে প্রাথমিক সুপারিশ পাওয়ার পর অসহায়-দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা ভাসছেন আনন্দ অশ্রুতে। কেননা, পুলিশ সুপার বিনা টাকায় চাকরির ঘোষণা দিলেও ‘টাকা ছাড়া চাকরি হয় না’- এ প্রচলিত কথা ভেবে সংশয়ে ছিলেন তারা। কিন্তু সেই আপ্তবাক্যকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে যে এক বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার)।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর