× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

বরিশালে কল্লাকাটা গুজব

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:৪৪

বরিশালের সরকারি একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সিনিয়র কর্মকর্তা দুপুরে ফোন করে বললেন ভাই কল্লাকাটা গুজবে রাতে ছেলে এখন একা বিছানায় ঘুমুতে চাইছে না, স্কুলেও পাঠানো যাচ্ছে না, কী করি? বেলা ১২টায় এক সুহৃদ ফোন করে বললেন ভাই চৌমাথায় নাকি কল্লাকাটা গ্রুপের একজন আটক হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম গুজব। একইভাবে প্রতি মুহূর্তে এ গুজবটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পদ্মা সেতুতে বিপুল পরিমাণ মানুষের মাথা প্রয়োজন, তাই শহরে বেরিয়েছে কল্লাকাটা গ্রুপ। একবিংশ শতাব্দীতে ডিজিটালাইজড যুগে এ ধরনের গুজবে কান দিয়ে অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিতরা আতঙ্কিত হতে পারে কিন্তু শিক্ষিতরাও এখন গুজবের পিছনে ছুটছে। ফলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ আকারে। জানা গেছে এ গুজব শুধু বরিশালেই নয়, কুমিল্লা চট্টগ্রামসহ অনেক এলাকায় মানুষ কল্লাকাটা গ্রুপের আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যদিও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার একটিরও কোনো প্রমাণ পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে কল্লাকাটা বিষয়কে সম্পূর্ণ গুজব দাবি করে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
রোববার বরিশাল নগরীর গীর্জা মহল্লা এলাকায় এক শিশুকে জোর-জবস্তি করা অবস্থায় এক নারীকে আটক করে জনতা। দাবি করা হয় এ মহিলা কল্লাকাটা গ্রুপের সদস্য। পিটুনি দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে জানা যায় ওই শিশুটির নিকটাত্মীয় হন তিনি। এর ২/৩দিন আগে এক অপ্রকৃতস্থ মানুষকে কল্লাকাটা গ্রুপের লোক বলে আটক করা হয়েছিল। মূলত সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে বারুদের গতিতে ছড়াচ্ছে ‘পদ্মা সেতুতে কয়েক হাজার মানুষের মাথা লাগবে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করতে।’ এখন এ গুজবে মায়েরা শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্কুলে উপস্থিতি ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। যদিও বরিশাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুজবে কান না দিতে মানুষকে আশ্বস্ত করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আতঙ্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত দাবি করছেন, নগরীর স্কুলগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।
বরিশাল জিনিয়াস কিন্ডারগার্টেনের প্রিন্সিপ্যাল জাহানারা বেগম যা বললেন তাতে গুজব কীভাবে ছড়ায় তার প্রমাণ মেলে। তিনি বললেন ৩/৪ দিন আগে তার বাসায় ভোরবেলা এক মহিলা এসে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। বাচ্চাদের খোঁজ- খবর নেন। তারপর অপর এক বাসায় যান। পরে আর মহিলাকে তিনি দেখেননি। এরপর তার স্কুলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে অনেক।
উদয়ন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কল্লাকাটা গুজবে আশঙ্কজনকহারে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে গেছে। তার জীবনে এ রকম আতঙ্কিত হতে তিনি দেখেননি কাউকে। অথচ কল্লাকাটা’র এ বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ গুজব হিসেবেই দেখেন। কিন্তু তাদের কথায় অভিভাবকরা কান দিচ্ছেন না বলে তার দাবি।
এদিকে গুজবে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার সদর গার্লস স্কুলে শিক্ষার্থী অভিভাবক নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন তারা।  দ্যর্থহীনভাবে প্রশাসনের পক্ষ ্রেথকে এটিকে গুজব বলে আশ্বস্ত করা হয়। সদরগার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকা জানান এতে তাদের আতংক কেটে গেছে।
‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা বলেন, সবাই শুনেছে কিন্তু বরিশাল নগরে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আশ্বস্ত করছি এবং এ ধরনের গুজব যাতে বিশ্বাস না করে সেজন্য বলছি। আমরা সবাইকে সতর্ক হতে বলবো কিন্তু আতঙ্কিত নয়। আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো শুধু ছেলে ধরার বিষয় নয়, কারো অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করুন। কারণ আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর