× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

৪৪ বছর রোজা পালনকারী সখীরন নেছা আর নেই

বাংলারজমিন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:৪৫

জননীদের আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সখীরন নেছা ওরফে ভেজিরন বুড়ি। যিনি নিজের সন্তানের মঙ্গলের জন্য প্রায় ৪৪ বছর ধরে রোজা রেখেছেন। সবার প্রিয় সেই সখীরন নেছা আর নেই। গত সোমবার সন্ধ্যায় আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সখীরন নেছা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী। প্রতিবেশী মনজুর আহম্মেদ জানান, ১৫ দিন ধরে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিলেন। রক্ত তৈরি করা কোষগুলো তার অকেজো হয়ে পড়েছিল। সোমবার রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামে আদর্শ মা সখীরন নেছাকে দাফন করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, খুবই হতদরিদ্র ঘরের একজন সাধারণ মা ছিলেন তিনি। কাজ করতেন মানুষের বাড়ি ও ভাজা ফ্যাক্টরিতে। কখনো ঝাল আর কলাই তুলে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ৪৪ বছর রোজা পালন করলেও খাওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। কোনো সময় শুধু পানি মুখে দিয়েই রোজা ভাঙতেন। স্থানীয় মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল বলেন, সন্তানের জন্য রোজা পালন করা মা পৃথিবীতে আছে কি না অন্তত আমার জানা নেই। সন্তানের জন্য তিনি ১৯৭৫ সাল থেকে এক নাগাড়ে রোজা পালন করেছেন। ফেসবুকের কল্যাণে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে তিনি ব্যতিক্রম একজন মমতাময়ী মা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিলেন। জানা গেছে, সখীরন নেছা বুড়ির স্বামী আবুল খায়ের ছিলেন একজন বিত্তশালী মানুষ। ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী ছিলেন সখীরন। স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবী পরিবারে পরিণত হন সখীরন। ১১ বছর বয়সী বড় সন্তান শহিদুল হারিয়ে গেলে তার জন্য রোজা পালন শুরু করেন তিনি। শহিদুল বাড়ি ফিরে এলেও রোজা ভাঙেননি সখীরন। ছেলে শহিদুলের বয়স এখন ৫৫। শহিদুল জানান, ‘এমন মা পাওয়া বর্তমান জমানায় সত্যিই গর্বের বিষয়। আমার মা ছিলেন অনুকরণীয় ও অবিস্মরণীয় একজন নারী।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর