× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

‘লাশ খাটের নিচে রাখা, নিয়া দাফন কইরো’

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৮:৫৫

মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়েছিল আমির হোসেন ও শারমিন আক্তারের। পরিচয় থেকে ভালোবাসা। এক পর্যায়ে দুজনে বিয়ে করেন। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছিল। গরমিল শুরু হয় বিয়ের পর। স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য খুবই চাপ দিতে থাকেন আমির হোসেন। শারমিন যৌতুক দিতে পারতেন না। যৌতুক না পেয়ে প্রায়ই মারধর করতেন স্ত্রীকে।
এজন্য সংসারে ঝগড়া লেগে থাকত প্রায়ই। সর্বশেষ স্ত্রীর কাছে ১০ হাজার টাকা যৌতুক  চেয়ে ব্যর্থ হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাশুড়িকে ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন জামাতা। শাশুড়িও তাকে নিরাশ করেণ। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে খাটের নিচে রাখে স্বামী। ফোন করে শাশুড়িকে বলে, যৌতুক তো দিলা না, লাশ খাটের নিচে রাখা, নিয়া দাফন কইরো। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রী শারমিন আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগে ঘাতক স্বামী আমির হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মোহাম্মদপুর থানার সাদেক খান রোডের একটি বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন আমির হোসেন। ওই বাসাতেই আমির তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। হত্যার পর স্ত্রীকে খাটের নিচে রেখে সে পালিয়ে যায়। আর শাশুড়িকে ফোন করে মেয়ের মরদেহ আনার কথা জানায়। তিনি বলেন, আমির তার স্ত্রীকে মুখে স্কচটেপ পেঁছিয়ে পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর বাড়ির পরিচালক তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।
পিবিআইসূত্র বলছে, আমির হোসেন যৌতুক পাবার আশায় এর আগেও দুটি বিয়ে করেছে। বিয়ে করে যৌতুক আদায় করাই ছিল তার কাজ। শারমিনকেও সে একই উদ্দেশ্য বিয়ে করেছে। গত ৩০ জুন শারমিনের কাছে ১০ হাজার টাকায় চায়। শারমিন এই টাকা দিতে অপারগতা দেখালে পর দিন সে তার শাশুড়ি ফজিলাত বেগমকে ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চায়। টাকা না দিলে শারমিনকে মেরে খাটের নিচে ফেলে রাখবে বলে জানায়। শারমিনের মাও তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সে স্ত্রীকে হত্যা করে খাটের নিচে রাখে। ৩ জুলাই শাশুড়িকে ফোন দিয়ে লাশ নিয়ে দাফন করার কথা বলে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর